আমতলীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ নির্যাতন, সমন জারি

borguna map
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় মার্জিয়া বেগম (১৯) নামের এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করে তার স্বামী আবুল হোসেন রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত তিন আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

সোমবার (২ এপ্রিল) বিচারক মো. হুমায়ূন কবির তিন আসামীর বিরুদ্ধে এ সমন জারি করেন।

এর আগে রবিবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার গোজখালী গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। মার্জিয়া বেগমের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার গোজখালী গ্রামের মোতালেব দফাদারের মেয়ে মার্জিয়া বেগমের সাথে কুকুয়া ইউনিয়নের খাকদান গ্রামের সেকান্দার সিকদারের ছেলে আবুল হোসেন সিকদারের ২০১৭ সালে ৫ এপ্রিল বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আবুলের পরিবারের হাতে স্বর্ণালংকারসহ ২ লাখ টাকা উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

বিয়ের কিছুদিন যাওয়ার পরেই স্বামী আবুল হোসেন তার স্ত্রী মার্জিয়াকে ব্যবসা করার জন্য বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলে।

মার্জিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে না দিলেই স্বামী আবুল হোসেন, শ্বশুর সেকান্দার সিকদার, শাশুড়ি জাহানারা বেগম ও দেবর আবুল কালাম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।

গত শুক্রবার ব্যবসা করবে বলে মার্জিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে স্বামী আবুল হোসেন। শনিবার স্বামী আবুল হোসেন স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যায় এবং ব্যবসা করার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু গরীব শ্বশুর মোতালেব দফাদার তার জামাতার চাহিদামতো যৌতুক দিতে অস্বীকার করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল হোসেন শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী মার্জিয়াকে রেখে চলে যায়। এ সময় স্ত্রী মার্জিয়া স্বামীর পেছনে পেছনে ছুটে চলে। শ্বশুর বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার গেলে আবুল হোসেন স্ত্রী মার্জিয়াকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে যায়। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে মার্জিয়াকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় সোমবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মার্জিয়া বাদী হয়ে স্বামী আবুল হোসেনকে প্রধান আসামী করে পাঁচজনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। তার প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক প্রধান আসামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, মার্জিয়ার সারা শরীরে রক্তাক্ত ফোলা জখমের চিহৃ রয়েছে। শরীরের অসহনীয় যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মার্জিয়ার গলা, বাম বাহু, রান, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখমের চিহ্ন রয়েছে।

আহত মার্জিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বিয়ের এক বছরে যৌতুকের জন্য স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

ad