আমতলীতে শিক্ষকের মারধরে অজ্ঞান ছাত্রী!

borguna
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে মাদ্রাসার দুই ছাত্রীকে ক্লাসে বসে পড়ার বিষয়ে কথা বলার অপরাধে সহকারী মৌলভী মাওলানা মো. সিদ্দিকুর রহমান মাথায় সজোরে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক ছাত্রী ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

বুধবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বালিয়াতলী চরকগাছিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুইজন হলো- সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মিম আক্তার ও শিমু আক্তার।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত মিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানাগেছে, মিম ও শিমু ক্লাসে বসে পড়া নিয়ে কথা বলছিল। এ সময় সহকারী মৌলভি মাওলানা মো. সিদ্দিকুর রহমান ক্লাস নিতে আসেন। তিনি এসে দুই সহপাঠীকে কথা বলতে দেখে ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে দুই সহপাঠীর মাথা ধরে সজোরে ৭-৮টি আঘাত করেন সিদ্দিকুর।

এতে মিম আক্তার গুরুতর আহত হয় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার তিন ঘন্টা পরে মিম আক্তারের জ্ঞান ফিরে আসে। বুধবার দিবাগত রাতে বাড়িতে মিম আক্তারের মুখমণ্ডল ও মাথা ফুলে উঠে। তার শরীরের অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রী মিম আক্তার জানান, আমরা দুই সহপাঠী পড়ার বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। ওই মুহূর্তে হুজুর এসে আমাদের দুই সহপাঠীর মাথা ধরে সজোরে আঘাত করে। এতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে তিন ঘন্টা পরে জ্ঞান ফিরে পেয়েছি।

মিমের বাবা জাহাঙ্গির হাওলাদার বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষক সুলভ আচরণ সে করেনি। আমার মেয়ের মুখমণ্ডল ও মাথা ফুলে উঠেছে। ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

সহকারী মৌলভী মাওলানা মো. সিদ্দিকুর রহমান ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ইচ্ছা করে করিনি। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। আগামীকাল (শুক্রবার) ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ওই ছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসার যাবতীয় খরচ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আকমল হোসেন বলেন, বিষয়টি নেহায়েত অন্যায়। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad