আমতলীতে স্ত্রীকে এসিড মেরে হত্যার হুমকি স্বামীর

Amtoli
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার বায়বালা গ্রামের স্বামী কাওসার সিকদারের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের দাবিতে মারধর করে গর্ভজাত সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ এনে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন স্ত্রী রিনা বেগম ও তার পরিবার। মামলা তুলে না নিলে এসিড মেরে হত্যার হুমকি দিয়েছে স্বামী কাওসার সিকদার ও তার সহযোগিরা।

রবিবার (১২ আগস্ট) আমতলী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে রিনা আরও জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। পুলিশকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও বলেন, উল্টো এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাদব চন্দ্র দে আসামীদের সহযোগিতা করছে। আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এমনকি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাদব চন্দ্র দে বাদীর পরিবারের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েও কাজ করছে না।।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিনার বাবা আবদুল জব্বার হাওলাদার, মা শাহিদা বেগম, ভাই ইলিয়াস, মামা আবদুস সোবাহান মুন্সি ও ভগ্নিপতি মো. জাকির হোসেন।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানাগেছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে গলাচিপা উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামের জব্বার হাওলাদারের মেয়ে রিনা বেগমের সাথে আমতলী উপজেলার রায়বালা গ্রামের সোনা মিয়া সিকদারের ছেলে কাওসার সিকদারের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ এক লক্ষ টাকা স্বর্নালংকারসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেয়। এরপর আবার ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে কাওসার। এ টাকা দিতে অস্বীকার রিনাকে বিভিন্ন সময় বেধড়ক মারধর করা হয়।

মারধরের সময় একদিন রিনার পেটে কাওসার লাথি দিলে তার রক্তক্ষরণ হয় এবং চার মাসের গর্ভজাত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে রিনাকে চিকিৎসা না করে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। স্বজনরা খবর পেয়ে ওই দিন গভীর রাতে পুলিশের সহযোগিতায় রিনাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় রিনা বাদী হয়ে আমতলী থানায় স্বামী কাওসারকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের নামে নারী নির্যাতন দমন ও যৌতুকের দাবিতে মারধর করে গর্ভজাত সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে কাওসার ও তার সহযোগীরা রিনা ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, রিনাকে রক্তক্ষরণাবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল। মারধরে তার গর্ভজাত সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাদবচন্দ্র দে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। আমি আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।

আমতলী থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম বিপিএম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। বাদী আমার নিকট আসলে মামলার বিষয়ে সর্বোত্তক সহযোগিতা করা হবে।

ad