আমতলীর উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীর গাছ কাটার মহোৎসব

AMTALI TREE
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’পাশে উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনীর গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বনদস্যুরা। তবে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বন বিভাগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনদস্যুরা গাছ কেটে নেয়ার পরে বন বিভাগের লোকজন এসে দায়সারা অভিযান চালায়। প্রতিদিন বনের গাছ কাটায় উজাড় হয়ে যাচ্ছে গুলিশাখালীর খেকুয়ানী স্লুইজ থেকে কলাগাছিয়া বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপকুলীয় সবুজ বেষ্টনী।

জানাগেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী স্লুইজ থেকে কলাগাছিয়া বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এ বাঁধের দু’পাশে ১৯৯৬ সালে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের মাধ্যমে বন বিভাগ ১৬ হাজার আকাশ মনি, মেহগনি, চাম্বল, রেইন্ট্রি, জিলাপি, বাবলা ও শিশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’পাশের গাছ কাটার মহোৎসব চলচে। স্থানীয় একটি চক্র রাতের আধারে এ কাজ করছে। স্থানীয়রা গাছ কাটার খবর বন বিভাগকে জানালে তারা এসে বনদস্যুদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যায়। গত ৫ বছরে ১৬ কিলোমিটার সবুজ বেষ্টনীর অর্ধেকের বেশী গাছ স্থানীয় বনদস্যুরা বন বিভাগের সহায়তায় কেটে নিয়ে গেছে।

জানাগেছে, শুক্রবার রাতে গুলিশাখালী ব্রিকস সংলগ্ন স্থানে জহিরুল ফকির, সোহেল ফকির, সুলতান, মজিবুর ও সবুজ ফকির একটি বড় আকারের চাম্বল গাছ কেটে খাদায় লুকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন শনিবার সকালে ওই গাছ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় মানিক গাজির হেফাজতে দিয়ে আসে। এ গাছের মূল্য অনুমানিক ৫০ হাজার টাকা।এছাড়া গত ১৫ মার্চ গুলিশাখালী ইউপি সদস্য আবুল হোসেন সিকদার গুলিশাখালী হাই স্কুলের পাশের একটি শিশু গাছ কেটে নিয়ে গেছে। প্রতিদিন ওই সবুজ বেষ্টনীর গাছ কাটছে বনদস্যুরা।

শনিবার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী, কান্তার স্লুইজ, গুলিশাখালী ব্রিকস, নাইয়াপাড়া, হরিদ্রাবাড়িয়া, কলাগাছিয়া ও গুলিশাখালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’পাশের সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের অর্ধেক গাছ নেই। কোথাও গাছের গোড়া ও ডালপালা পড়ে রয়েছে। আবার অনেক গাছের গোড়া তুলে নেয়া স্থানে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া।

স্থানীয় মোসলেম গাজী, নুরুজ্জামান ফকির ও সাইদুল বলেন, গত ৫ বছর ধরে রাস্তার দু’পাশের গাছ কেটে উজাড় করে দিচ্ছে বনদস্যুরা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বন দস্যুরা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ছুটে আসলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বরং টাকা নিয়ে চলে যায়।

গুলিশাখালী ব্রিকস সংলগ্ন মানিক গাজী জানান, রাতে আধারে একটি গাছ বনদস্যুরা কেটে খাদায় ফেলে রেখেছে। ওই গাছ বন বিভাগের লোকজন আমার হেফাজতে রেখে গেছেন।

বনদস্যু জহিরুল ইসলাম রাতের আধারে গাছ কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেকেই গাছ কেটে নিয়ে যায় তাই আমিও কেটেছি।

ইউপি সদস্য আবুল হোসেন শিকদার গাছ কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, বন বিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে গাছ কেটেছি।

বন বিভাগের ফরেষ্টার মো. আবদুল আজিজ, আবদুল লতিফ ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ উদ্ধার করে স্থানীয় মানিক গাজীর হেফাজতে রেখে এসেছি।

আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস বন বিভাগের লোকজনের জড়িতের কথা অস্বীকার করে বলেন, গাছ উদ্ধার করেছি। বনদস্যুদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad