আ. লীগের নেতা হলেন বিএনপি নেতার ছেলে এলিট!

A League, leader, son of BNP leader, Elite,
ad

জাগরণ ডেস্ক: বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফের ছেলে নিয়াজ মোরশেদ এলিট হঠাৎ আওয়ামী লীগের নেতা বনে গিয়েছেন। এলিটকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিস্মিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকে। তারা বলছেন, অনেকে আছেন যারা যুগের পর যুগ রাজনীতি করে যেখানে জেলা কমিটিতেই স্থান পান না, সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে এলিটের স্থান পাওয়া বিস্ময়কর ঘটনা। ত্যাগী নেতাদের পরিবর্তে হঠাৎ আসা কেউ দলে ‘অনুপ্রবেশ’ করে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে দলের ভিতই দুর্বল হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে গত ৮ এপ্রিল প্রথম সভায় যোগ দেন নিয়াজ মোরশেদ এলিট। এ খবর প্রচার হওয়ার পর চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে এলিট আওয়ামী লীগের কেউ নয় বলে দাবি করেন। ফেসবুকে কেউ কেউ মন্তব্য করেন এভাবে- ‘এলিট পেইন্ট দিয়ে দেয়ালে ছাত্রলীগের চিকা মেরেছি, কিন্তু ছাত্রলীগ করেন এমন কোনো এলিটের নাম শুনিনি।’

এলিটের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বার এবং খুলশী ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বড়তাকিয়া গ্রুপের কর্ণধারও তিনি। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠজন ও অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এলিটের পদ পাওয়া প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক এমএ সালাম বলেন, এলিট কখনও নগরীতে বা জেলায় দলের কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না। এভাবে হঠাৎ আসা কাউকে ছোট হলেও একেবারে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতে স্থান দেয়া পার্টির আদর্শিক রীতিনীতি ও চেতনার মধ্যে পড়ে না। তাকে এ পদ দেয়ার আগে আমাদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করা হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, এলিটকে আমি ছাত্রজীবন থেকেই চিনি। সে ছাত্রলীগ করেছে। আমার হাত ধরে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে দলে সক্রিয় না থাকলেও সব সময় দলের জন্য আর্থিক সাপোর্ট দিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, অতীতে কোনো পদে না থাকলে বর্তমানে বা ভবিষ্যতেও যে থাকতে পারবে না এমন তো কোনো কথা নেই। পার্টি করতে হলে সময়-সুযোগের বিষয় আছে। দলকে সে অনেক কিছুই দিতে পারবে। যারা সমালোচনা করছেন তারা হয়তো ব্যক্তিস্বার্থে করছেন। এতে কিছু যায় আসে না। কেবল আওয়ামী লীগ বা অঙ্গসংগঠনের পদধারীরাই যে আওয়ামী লীগার, অন্যরা নয়- তা তো না। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতা-কর্মী, অনুসারী রয়েছে।

ad