কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

pic flood
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আরও কয়েকটি গ্রাম। এ নিয়ে উপজেলার ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে, কমলগঞ্জ পৌরসভাসহ ৩টি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। দুর্গত এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন, শুকনো খাবার, গবাদিপশু সংরক্ষণ ও পশু খাদ্যসহ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট। বন্যার ফলে আউশ ধান, বীজতলা, সবজির ক্ষেতসহ প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দুইদিনেও সরকারি কোন কর্মকর্তা বা ত্রাণ সহায়তা না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। যথাসময়ে ধলাই ও মনু নদীর বাঁধ মেরামত না করায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

জানা যায়, কমলগঞ্জ পৌরসভা, ইসলামপুর, আদমপুর ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও সোমবার সকালে পতনউষার, শমসেরনগর, মুন্সিবাজার  ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রাম বন্যার পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। দ্রুত পানি বাড়ছে ওই এলাকাগুলোতে। কমলগঞ্জ-শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কে বিভিন্ন স্থানে পানিতে নিমজ্জ্বিত হয়ে পড়ায় সকাল থেকে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে। পানিবন্দী অবস্থায় আছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।

পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবু জানান, কমলগঞ্জের সবচেয়ে নিন্মাঞ্চল হচ্ছে এ ইউনিয়ন। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ এলাকার প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। তিনি ব্যক্তিগত সহায়তা দিলেও প্রশাসন হতে গত দুইদিনে বন্যাক্রান্ত লোকজনকে কোন ধরনের সহায়তা দেয়া হয়নি।

আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজুলল হক বাদশা জানান, তার ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। কামুদপুর এলাকায় আশ্রায়ন প্রকল্পের যাতায়াতের তিনটি রাস্তা চার ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে আছেন।

শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, তার ইউনিয়নে ১৮টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে।

মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের ২৩ গ্রাম এখনও পানিতে নিমজ্জিত আছে। ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান জানান, রাধানগর-রুপশপুরের কারিতাস সড়ক এখনও তিনফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত আছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আশা করা যাচ্ছে সোমবার বিকাল থেকে পানি কমতে শুরু করবে। তবে কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলির পানিবন্দি মানুষজন ও ফসলি জমির রোপিত আউশ ফসল পানি না নামলে বলা যাবে না কি অবস্থায় আছে। উপজেলা প্রশাসন এ দিকে সার্বিক নজরদারী করছে।

ad