কলাপাড়ায় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ওপর বর্বর নির্যাতন

jagoran- , Pregnant, housewife, torture,PNG
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার কলাপাড়ায় মোটরসাইকেলের কিস্তির টাকা এনে দিতে অস্বীকার করায় ছয় মাসের অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূ হাফিজা আক্তারকে তার স্বামী বেলাল হোসেন ও শাশুড়ি রাশিদা বেগম নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাফিজাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে বিকালে উপজেলার চাকামুইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানাগেছে, ২০১৬ সালে তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা গ্রামের হারুন অর রশিদের মেয়ে হাফিজা আক্তারের সাথে কলাপাড়া উপজেলার চাকামুইয়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় হাফিজাড় পরিবার তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ছেলে পক্ষকে দেয়।

বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রী হাফিজাকে নির্যাতন করে আসছে তার স্বামী ও শাশুড়ি। গত বছর মোটরসাইকেল কেনার জন্য স্ত্রী হাফিজাকে বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। কিন্তু হাফিজার দরিদ্র বাবা হারুন অর রশিদ এ টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ওই সময় থেকে স্বামী বেলাল হোসেন ও শ্বাশুড়ী রাশিদা বেগম হাফিজাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বামী বেলাল হোসেন মা রাশিদার পরামর্শ মোতাবেক মোটরসাইকেলের কিস্তির দশ হাজার টাকা হাফিজার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে বলে। হাফিজা বাবার বাড়ি থেকে এ টাকা এনে দিতে অস্বীকার করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় স্বামী বেলাল হোসেন ও শাশুড়ি রাশিদা বেগম।

এ নিয়ে বিকালে শাশুড়ি রাশিদার সাথে হাফিজার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী ও শাশুড়ি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ হাফিজাকে লাথি ও কিল-ঘুষি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে হাফিজা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। খবর পেয়ে স্বজনরা হাফিজাকে উদ্ধার করে রাতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূ হাফিজা আক্তার জানান, আমার স্বামী ও শাশুড়ি মোটরসাইকেলের কিস্তির ১০ হাজার টাকা আমার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে বলে। আমি এ টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে আমার পেটে লাথি, কিল-ঘুষি দিয়ে তারা মারধর করেছে। মারধরেড় সময় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার পেটে এখন ভীষণ ব্যথা করছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হারুন-অর রশিদ বলেন, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হাফিজার শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

স্বামী বেলাল হোসেন মুঠোফোনে স্ত্রী হাফিজাকে তার বাবার বাড়ি থেকে দশ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী যদি বলে থাকে তাহলে মারধর করেছি।

আমতলী থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad