কাপাসিয়ায় বিভিন্ন হাট-বাজারে ওজনে কারচুপি

Jagoran- Kapasia
ad

স্থানীয প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের বাটখারা ও ওজনের মারপ্যাচে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। কেজি বাটখারা ব্যবহার না করে ব্যবহার করা হচ্ছে সেরের বাটখারা। দেদারসে চলছে কেজির পরিবর্তে সেরের হিসাব।

এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লাভের আশায় প্রতিনিয়তই ঠকাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের। অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতারক ব্যবসায়ীরা। সেরের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে মাছ-মাংসের দোকানগুলোতে। প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানাগেছে, উপজেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র কাপাসিয়া বাজার, রাণীগঞ্জ বাজার, তারাগঞ্জ বাজার, রাওনাট বজার, চাঁদপুর বাজার, আড়াল বাজার, চালা বাজার, ত্রিমোহনী বাজার, বারিষার বাজার, টোক বাজার, আমরাইদ বাজার, রায়েদ বাজার, ইকুরিয়া বাজার, সিঙ্গুয়া বাজারসহ ছোট-বড় বাজারগুলোতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ধান, চাল, পাট, আলু, পেয়াজ, রসুন,আদা, গুড়সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ক্রয়ের সময় অতিরিক্ত ওজনের বাটখারা ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের প্রতারিত করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।

মাছ-মাংস, সবজিসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বিক্রির সময় কম ওজনের বাটখারা ব্যবহার চলছে অবাধে। অনেক হাট-বাজারে বিভিন্ন জাতের মাছ, ছাগল, গরু, মহিষ, মোরগের মাংস বিক্রির সময় কেজি বাটখারা ব্যবহার না করে মান্দাতা আমলের সেরের ব্যবহার করেও ক্রেতাদের প্রতারিত করা হচ্ছে।

কেজির ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও এখনও অনেক জায়গায় সেরের ব্যবহার চলছে। বাজারে কেজির যে বাটখার ব্যবহার চলছে তার সঠিক ওজন এবং সেরের ব্যবহার নিয়ে প্রতিনিয়তই ক্রেতাতের সাথে ব্যবসায়ীদের বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়।

কেজি বাটখারা দিয়ে বাজার থেকে ১ কেজি ওজনের মাছ বা মাংস কিনে সঠিক ওজনের বাটখারা দিয়ে পরিমাপ করলে তা ৮০০ গ্রামের বেশি হয় না। এতে ১ কেজি মাংসের মূল্য ৪০০ টাকা ধরে ২০০ গ্রাম কম দিয়ে প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত ৮০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতারক ব্যবসায়ীরা।

কাপাসিয়ায় বা গাজীপুরে বিএসটিআইর কোনো কার্যক্রম নেই। ঢাকা থেকে এসে তারা মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করে থাকেন।

কাপাসিয়া উপজেলার বড়জোনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম জানান, গ্রামের অনেক নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনই বাজারের কম-বেশি কেনাকাটা করতে আসে। বাটখারার কারসাজিতে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কম দিয়ে থাকে জেনেও এ সব প্রান্তিক ও নিরীহ মানুষজনের করার কিছুই থাকে না। তাদের প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও নেই।

তিনি জানান, বাজারের এসব বাটখারার ওজনে মাছ-মাংস, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। কেজি বাটখারার বদলে সের ব্যবহার হচ্ছে অনবরত। এসব দেখার কেউ নেই। অনেক ব্যবসায়ী ওজনে কম দেয়া বা পণ্যে ভেজাল দেয়া, ফরমালিন মেশানোকে এখন আর অপরাধ বলেই মনে করে না।

মাঝে মাঝে ভেজালবিরোধী অভিযানে উপজেলার বাজারগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন হলেও পরেরদিন থেকেই বাজার ক্রয়-বিক্রয়ের দৃশ্য আগের মতো হয়ে যায়। সেনেটারি কর্মকর্তার তৎপরতা নেই বলেই চলে।

বাজারে মাপে কম ও সেরের ব্যবহার বিষয়ে জানার জন্য সেনেটারি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ad