কালিহাতীর শিক্ষক আনিসুর হত্যার কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ

anisur rahman
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আনিসুর রহমান তুলা (৫৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্যের কোনো কূলকিনারা পাচ্ছে না পুলিশ। তারা কয়েকটি ক্লু ধরে এগিয়ে গেলেও উল্লেখ্যযোগ্য কোনো তথ্য প্রমাণ পায়নি।

এদিকে, ছয়দিনেও এ মামলার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় আতঙ্কে রয়েছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার।

আনিসুর রহমান কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও মৎস্য-হ্যাচারি ব্যবসায়ী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলীর ছোটভাই।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন বুধবার রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে ছেলে সিহাবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা হয় আনিসুর রহমানের। এরপর থেকে তার সাথে আর কারোর যোগাযোগ হয়নি এবং তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার ভাই অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় জিডি দায়ের করেন।

পরদিন ২৮ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবকরা ফুটবল খেলা শেষে তার বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে Anisurনামে। গোসলের সময় তাদের পায়ে কিছু একটা ভারি বস্তু স্পর্শ হলে তারা আশপাশের লোকজনকে জানায়। পরে পুকুরে তল্লাশি চালানো হলে তার হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা, পেটে ইটভর্তি বস্তা বাঁধা লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই কালিহাতী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার। ওইদিন পুলিশ চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে এরপরও কারা হত্যা করেছে তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

নিহতের স্ত্রী মামলার বাদী শাহীনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। যাতে এ ধরনের জঘন্য কাজ করার কেউ করার সাহস না পায়। এভাবে আর কেউ যেন স্বামী এবং কোনো সন্তান পিতাহারা না হন।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডটির গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।  এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাটি নিয়ে পারিবারিক, ব্যবসায়িক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ad