কালিয়ায় কলেজ অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

Narail- college
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক কলেজের অধ্যক্ষ আবু রেজা মোল্যা ও সভাপতি শেখ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কলেজের উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

তাদের বিচারের দাবিতে কলেজের সামনের সড়কে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রিসহ শিক্ষার্থীদের কাছ বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করেছে। গত জুনে কলেজ মাঠ ভরাটকল্পে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪৫ মেট্রিক চাল বরাদ্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ টাকা কলেজের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না করে তারা নিজেরা আত্মসাত করেছে।

কলেজের সাবেক অভিভাবক সদস্য মোল্যা টিপু সুলতান বলেন, কলেজ মাঠ ভরাটের কাজে ১৫ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ হলেও নামমাত্র টাকার বালি ভরাট করে বাকি টাকা অধ্যক্ষ ও সভাপতি আত্মসাত করেছেন। এ কাজে কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলামও জড়িত ছিলেন।

কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মদ খান বলেন, খড়ড়িয়ার ইমাম হোসেন তুষারের ৫০ হাজার টাকার অনুদানও অধ্যক্ষ ও সভাপতি আত্মসাত করেন।

বাস্তবায়ন কমিটির অপর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি মোস্তফা কামাল ও জিন্নাত শেখ জানান, কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দুই কক্ষের পাকা ল্যাট্রিন, টিনশেডের দু’টি শ্রেণিকক্ষ এবং শহীদ মিনার ভাঙা হয়। এখানে দুই লক্ষাধিক টাকার ইট, খোয়া, রড ও টিন বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাত করেন কলেজ অধ্যক্ষ ও সভাপতি।

এছাড়া, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা আত্মসাত করেন তারা।

কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, কলেজের মাটি ভরাটের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়নি। যাচাই-বাচাই করে মাটি ভরাটের বিল দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কলেজ সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজ মাঠ ভরাটের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধিতার খাতিরে আমার বিরোধিতা করছেন।

অধ্যক্ষ আবু রেজা মোল্যা বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। কলেজ মাঠ বরাদ্দের বিষয়টি সভাপতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলতে পারেন আমাকে এ ব্যাপারে সভাপতি কিছুই জানায়নি।

ব্যবহারিক পরীক্ষা ও প্রশংসাপত্র বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

ad