কাল খুলছে কুড়িগ্রামের দ্বিতীয় ধরলা সেতু

Dhorla bridge
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলা নদীর উপর নির্মিত দ্বিতীয় ধরলা সেতু শনিবার (২৭ এপ্রিল) যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) ফুলবাড়ীর বালারহাটে একটি অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী বিষয়টি জানান।

আজ শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সকালে সেতু খুলে দেবার আগমুর্হূতে সেতুটি উপযুক্তকিনা তা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈয়দ আব্দুল আজিজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবেন্দ্র নাথ উরাও, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার।

ফুলবাড়ীর ব্যবসায়ী জাকারিয়া, চিকিৎসক এরশাদুল, ব্যবসায়ী বুলবুল, মিলন, সাত্তার, হাকিম, বেলাল জানান, শনিবার থেকে সেতু খোলা থাকবে। ভাবতেই কেমন যেন গা ছমছম করছে। কি যে অনুভূতি! এখন শুধু অপেক্ষা কখন রাত পোহাবে!

সেতুটি চালু হলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ লোক উপকৃত হবে। বিভাগীয় শহর রংপুরসহ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। কমে যাবে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার সড়ক পথ।

অন্যদিকে, সেতুটি চালু হলে বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ী দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৭টি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুনাচলের সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। যুগান্তকারী অগ্রগতি ঘটবে বাংলাদেশ ও ভারতের এসব এলাকার। একই সাথে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে কলকাতার যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালমনিরহাটের কুলাঘাট ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর মধ্যস্থিত ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডের ধরলা দ্বিতীয় সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্ববধানে নির্মিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দীর্ঘতম এই সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডি সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালে। সেতুটির নদী শাসন, এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপের পিএম সাধন কুমার পাল জানান, সেতুটি জুন ২০১৬ তে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের কারণে প্রথম দফায় ৩১ জুন ২০১৭ এবং দ্বিতীয় দফায ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সবশেষ জানুয়ারি ২০১৮ সালে নাভানা কনষ্ট্রাকশন গ্রুপ নির্মাণের কাজ শেষ করে। সেতুটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) রফিকুল ইসলাম জানান, অনেক আগেই সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে। সরকারের মাননীয় মন্ত্রীসহ অনেকেই সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার বিকালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. জাফর আলী ও জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন সেতুটির প্রবেশদ্বার খুলে দিবেন।

ad