কুষ্টিয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ

Jagoran- Joudia Union Council
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৯নং ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কেরামত আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল আত্মসাতসহ অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে পরিষদের নয় সদস্য ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন।

একই সাথে অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরযুক্ত ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে- ইউপি চেয়ারম্যান কেরামত আলী সদ্য বন্টনকৃত ভিজিএফ কার্ডের তালিকাভুক্ত ২০০ জন হতদরিদ্র পরিবারে বরাদ্দকৃত প্রতি কার্ডের ২০ কেজি হিসেবে চাল, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আদায়কৃত ট্যাক্সের টাকা, ২০১৬-১৭ থেকে -১৮ অর্থ বছরের এডিপি কর্তৃক বরাদ্ধকৃত উন্নয়ন খাতের টাকা এবং একই অর্থ বছরে কর্মদক্ষতা ও মূল্যায়ন খাতে দুই কিস্তিতে বরাদ্দকৃত মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে এককভাবে তা আত্মসাত করেন।

সদর উপজেলার ৯নং ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সামসুর রহমান বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে ইউপি চেয়াম্যন কেরামত আলীর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন এবং এসব নিয়ে মাথা না ঘামানোর হুমকি প্রদানসহ তার নিজের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।

সম্প্রতি গত ঈদুল আজহার আগে ২০০ ভিজিএফ কার্ডধারী দরিদ্র পরিবার চাল পায়নি এবং সেই চাল ইউপি চেয়ারম্যান আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ তুলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আব্দুল জলিল নামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতা প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, ত্রাণ দুর্যোগ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দ বঞ্চিত কার্ডধারীদের তালিকা সংযোগে প্রতিকার চেয়ে লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কেরামত আলী বিশ্বাস মুঠোফোনে আলাপকালে এ প্রতিবেদককে জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সব সময়ই সরকারি বরাদ্দ আসলে মোট বরাদ্দের ৪০% দলীয় লোকদের মাঝে দেয়ার দাবি করেন। এবারেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন এবং সেক্রেটারী জহুরুল ইসলাম ঠান্টু পরিষদের এসে চাল সব ঢেলে নিজেদের মতো করে দেয়া শুরু করেন।

তিনি বলেন, ইউনিয়নের কার্ডধারী ১ হাজার ৫৯ জন দরিদ্রের মাঝে বরাদ্দকৃত নির্ধারিত ২০ কেজি পরিমাণ করে খাদ্য বন্টনে হেরফের হয়ে যায়। গত ঈদের আগে দলীয় নেতাদের ভাগের চাল দিতে গিয়েই সর্বশেষ প্রায় ১৫০ জন কার্ডধারী চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। তবে তাদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনকে নিজ পকেট থেকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করেছি। প্রকৃত অর্থে এই হেরফের হওয়ার কারণেই বিভিন্ন সময় কেউ কেউ অনিয়মের অভিযোগ তুলে আত্মসাতের দায় চাপায় চেয়ারম্যানদের ঘাড়ে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মাসিক সভায় সদর উপজেলার ৯নং ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানে বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ডধারীদের চাল আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সেটা রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং খুব জলদি এর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ad