কুড়িগ্রামে বিদ্যালয় মাঠ জলে ডুবে থাকায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

Kurigram, Sen's Farm Government Primary School,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের সেনের খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ জলে ডুবে থাকায় চরম দুর্ভোগে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। গোবরের গন্ধ আর খোলা ল্যাট্রিনের জলের দূষিত পরিবেশে বেড়ে উঠছে এখনকার ছোট্ট শিশুরা।

বিদ্যালয়ের মাঠ ভর্তি জল থাকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় দিন পার করে। মাঠ ভরাটকরণে সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিক আবেদন জানিয়ে প্রতিকার পাচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ।

Kurigram, Sen's Farm Government Primary School,

জানাগেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের সেনেরখামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০১ সালে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৫১ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৬৯ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

শতভাগ উপস্থিতির কারণে শ্রেণিকক্ষের রয়েছে চরম সংকট। পরীক্ষায় শতভাগ পাশ এবং উপস্থিতি থাকলেও বিদ্যালয়টির ব্যাপারে উদাসীন রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু থাকায় জল জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না। বর্ষা মৌসুম আসলেই যেন পুকুরে পরিণত হয়।

অপরদিকে, বিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ির খোলা ল্যাট্রিনের ময়লা এবং বিদ্যালয়টির বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় যত্রতত্র গরুর গোবর ফেলছে এলাকাবাসী। ভারি বৃষ্টিপাত হলেই এ সমস্ত ময়লা ভেসে বেড়ায় স্কুল মাঠে এবং দুর্গন্ধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নাভিশ্বাস উঠে যায়।

Kurigram, Sen's Farm Government Primary School,

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী পাপ্পু ইসলাম, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ বাবু এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম জানায়, বাবা-মা বৃষ্টি হলে স্কুলে আসতে দেয় না। কারণ বৃষ্টি হলেই মাঠে খুব পানি হয়। মাঠে পানি জমে থাকায় আমরা খেলতেও পারি না।

সেনের খামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সুফিয়া খাতুন জানান-বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে থাকায় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চায় না। ভারি বৃষ্টিপাতে হলেই বেঞ্চ জোড়া দিয়ে পারাপার করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. এমদাদুল হক জানান, আমরা স্কুল মাঠ ভরাটকরণে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল পাই নাই। তবে ইউএনও মহোদয় মাঠ ভরাটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ad