ক্রসফায়ারের হুমকি: নরসিংদীতে ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

case
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নরসিংদীতে থানা হাজতে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (৩ জুন) দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন এবং থানা হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত আবুল কালামের স্ত্রী সোমা বেগম।

আসামীরা হলো- শিবপুর থানার এএসআই সোহেল রানা, এসআই রিজাউল কাজী, এএসআই মামুন, মনোহরদী থানার এসআই নাজিম ও এএসআই শাহীন সরকার।

মামলায় এএসআই সোহেল রানার বিরুদ্ধে পুলিশ সহকর্মী ও আওয়ামী লীগ নেতাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই মাস পূর্বে ছাত্রলীগের কর্মীকে হয়রানীর জেরে শাস্তিমূলক বদলি হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

একই ঘটনায় পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাজানো স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতার প্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে এএসআই সোহেল রানা, কনস্টেবল মামুনকে এবং অভিযোগ উঠায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র সরকারকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানা মনোহরদী থানায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে থাকাকালীন সময়ে গত ৭ এপ্রিল বড়চাপা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহাগকে হয়রানির প্রতিবাদ জানায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম।

এই ঘটনার এএসআই সোহেল রানা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে তাকে মনোহরদী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি শিবপুর থানায় যোগ দেন।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে এএসআই সোহেল রানা প্রাইভেটকারসহ আবুল কালাম ও হিমেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে আবুল কালামের স্বজনরা থানায় গিয়ে কালামকে নির্যাতন করা হচ্ছে দেখতে পায়।

ওই সময় এএসআই সোহেল তাদের নিকট দুই লাখ টাকা দাবি করে, অন্যথায় কালামকে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু দাবিকৃত টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে কামালের হাত ভেঙে দেয় সোহেল।

পরে ভোররাতে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের তিন নেতা-কর্মী ও গোয়েন্দা পুলিশের এসআই খোকন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার জবানবন্দী আদায় করে এবং তা মুঠোফোনে রেকর্ড করে।

এ সময় ৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আটককৃত হিমেলকে ছেড়ে দিলেও ২৫০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে আবুল কালামকে কারাগারে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে মামলায় পলাতক আসামী করা হয়েছে মনোহরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম ও একদুয়ারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফরিদ আলম ভূঞা তুষারকে।

মনোহরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আমার ঘনিষ্ট। এ কারণে এএসআই সোহেল ছাত্রলীগের সভাপতির ওপর প্রতিশোধ নিতে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনও থাকতে পারে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র সরকার বলেন, আমি চলতি বছর জেলার সেরা মাদক উদ্ধারকারী হিসেবে তিনবার পুলিশ সুপারের নিকট পুরস্কৃত হয়েছি। এএসআই সোহেল ছাত্রলীগের ছেলেকে হয়রানি করে প্রত্যাহার হওয়ার সময় আমিও বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম।

তিনি বলেন, এই ক্ষোভ থেকেই সে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আতাঁত করে আমাকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িয়েছে বলে আমার ধারণা।

হয়রানির শিকার আবুল কালামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সোমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মাদক ব্যবসা দূরের কথা, কখনো মাদক সেবনও করেনি। তার বিরুদ্ধে অতীতে থানায় কোনো মামলাও নেই। আর দুই লাখ টাকার জন্য সেই লোকটিতে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়েছে এএসআই সোহেল। আমি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে এএসআই সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত এএসআই সোহেল রানা বলেন, থানায় কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। হিমেলকে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে কোনো টাকা নেয়া হয়নি।

পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি শুনে মিটিং এ আছেন তাই এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

ad