গুরুদাসপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শিশু ধর্ষণের নাটক

gurudaspur
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন অভিযোগকারী।

জানাগেছে, আড়াই বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী প্রতিবন্ধি লোকমান সরদারের (৭০) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন চাপিলা ইউনিয়নের বৃ-চাপিলা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস।

পরে পুলিশ ওই শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু শিশুটির নানা কুদ্দুস এতে রাজি না হওয়ায় এবং তদন্ত করে বিষয়টি সাজানো বলে অভিযোগ পাওয়ায় কুদ্দুসকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সঠিক ঘটনা উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস বলেন, শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ধর্ষণ নিশ্চিতে পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়নি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনিও বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী। বিষয়টি রহস্যজনক। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযোগকারীকে থানায় আনা হয়েছে।

জমি লীজের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ ধরনের নাটক সাজানো হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

জানাগেছে, গত মঙ্গলবার আব্দুল কুদ্দুসের নাতনিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয় প্রতিবেশী লোকমান সরদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুর নানা আব্দুল কুদ্দুসের অভিযোগ, ঘটনার একদিন পরে তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। তার নাতনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার দুপুরে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ইউপি মেম্বর আব্দুল হান্নান জানান, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে তিনিসহ তার দুই সন্তান শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাছাড়া তিনি ৭০ বছরের বৃদ্ধ। তার পক্ষে ধর্ষণ করা সম্ভব নয়।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়,  অভিযোগকারী আব্দুল কুদ্দুস ও তার ছেলে ছায়েদ আলী বাড়িতে যৌনকর্মী এনে দেহ ব্যবসা চালান। এলাবাসী অনেক মানা নিষেধ করলেও তারা এসব বন্ধ না করে উল্টো ধর্ষণসহ একাধিক মামলা দিয়ে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করেন।

ভুক্তভোগি লোকমান সরদার বলেন, কিছুদিন আগে প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে তিন লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি পুকুর লিজ নিয়েছেন তিনি। সেই টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে তার বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।

চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ভুট্ট জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে খোঁজ নিয়ে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে সেদিনই পরিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শিশুর নানা আব্দুল কুদ্দুস তা করতে দেননি। তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। সুতরাং শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না।

ad