গুরুদাসপুরে ফাইলে বন্দি ৪১ ছাত্রীর উপবৃত্তি

gurudaspur
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ২০১৫ সালে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর দুই বছরে চার দফায় উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ৪১ ছাত্রী এখনও কোন টাকাই পায়নি। শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়ে গেলেও ফাইলেই বন্দি রয়েছে এসব ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা। অথচ শিক্ষকদের টিউশন ফির টাকা তুলে নিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এতে ক্ষোভে উপবৃত্তি না পাওয়া ছাত্রীরা দ্রুত টাকা পাওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৫ মে) বেলা ১১টার দিকে কলেজ ক্যম্পাসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

গুরুদাসপুরের রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজে চলছে এমন অবস্থা।

কলেজ সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষে ছাত্রী ভর্তির পর নির্দেশনা মোতাবেক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ৪১ ছাত্রীর তালিকা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এজন্য ছাত্রীদের নামে ডাচবাংলা ব্যাংকে হিসাব নম্বরও খোলা হয়। তালিকা প্রেরণের ছয় মাসের মধ্যেই এসব ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়ে গেলেও তারা এখনওটাকা পায়নি।

বিধি মোতাবেক বিজ্ঞান বিভাগের জন্য প্রথম দফায় ৩ হাজার, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য ২ হাজার ১শ টাকা বরাদ্দ থাকে। সব মিলিয়ে দুই বছরে চার দফায় ৪১ ছাত্রীর ১লাখ ৮১ হাজার ২শ  টাকা পাওয়ার কথা ছিল।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, চলনবিল বেষ্টিত এই কলেজে দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীরা ভর্তি হয়। এসব ছাত্রীদের নানান সুবিধাও দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের ছাত্রীরা সময়মতো উপবৃত্তি পায়নি। অথচ টিউশন ফি’র টাকা উত্তোলন করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কেন উপবৃত্তি টাকা আসেনি এ ব্যপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন তদারকি করেনি। এতে কলেজে নতুন ছাত্রী ভর্তিতেও অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, কলেজের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ সালেই শিক্ষার্থীদের ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।

ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, সময়মতো টাকা না পাওয়ায় তাদের পরিবারের পক্ষে লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ছাত্রীকে তাদের পরিবার লেখাপড়া বন্ধ করে দিচ্ছে। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ডাচবাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে তাদের কিছু করার থাকে না। তবুও শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নাটোর অফিসের ইনচার্জ মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোন গাফিলতি নেই। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তাদের কাছে মনোনীত ছাত্রীদের তালিকা দেওয়া হলে তারা বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে পারবেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাকে আগে জানানো হয়নি। কেন টাকা আসেনি সেটাও তার জানা নেই। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। কাগজ পেলে খুব দ্রুত ডাচবাংলা ব্যাংকের সাথে কথা বলে সমাধান করা হবে।

ad