গুরুদাসপুরে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা, কাজ স্থগিত

Natore map
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ধানুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনার স্থাপনের জায়গা নিয়ে জটিলতার কারণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ স্থগিত হয়ে গেছে।

বৃহষ্পতিবার (২৫ মে) রাতে এ ঘটনার জের ধরে ধানুড়া বাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেনের সমর্থকরা ধানুড়া উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহসিন আলীকে প্রকাশ্যে হুমকি ও গালমন্দ করারও অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শুক্রবার (২৬ মে) দিনভর উভয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ১ দশমিক ১৭ একর জায়গার ওপর ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ধানুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থায়ী কোন শহীদ মিনার নেই। সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুস তার বিশেষ বরাদ্দ থেকে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ৭০ হাজার টাকা দেন। ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুকুলে ওই বরাদ্দের টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। শহীদ মিনার নির্মাণের স্থানও নির্ধারণ করেন সাংসদ।

বুধবার (২৪ মে) সাংসদ মনোনীত জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্বোধন এবং মোনাজাত সম্পন্ন করা হয়। উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পরিচালনা কমিটির সভাপতি-সদস্য এবং নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের রশি টানাটানির কারণে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ধানুড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহসিন আলী অভিযোগ করেন, তার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শহীদ মিনার নির্মাণের বরাদ্দ আসায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন ও সভাপতি আব্দুল আজিজ বিশেষ সুবিধা দাবি করাসহ সাংসদের মনোনীত জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণে বাঁধা প্রদান করেন। এ কারণে নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিম উদ্দিন জানান, মূলত শহীদ মিনার নির্মাণের বরাদ্দ থেকে কিছু অংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন দাবি করেন। না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ধানুড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মহসিন আলীকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন দাবি করেন, সাংসদ মনোনীত জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে মাঠ সংকুচিত হয়ে যাবে। এ কারণে দ্বিমত পোষণ করেছি। তবে বিশেষ সুবিধা দাবি এবং মহসিন আলীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বলেন, তার পরামর্শ ও সহযোগীতায় সাংসদ শহীদ মিনারটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে না জানিয়েই শহীদ মিনার নির্মাণ করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোসের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ad