গুরুদাসপুরে ২০১৬ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দিল ১৬ শিক্ষার্থী

HSC, Exam, start,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবার কথা থাকলেও শিক্ষকের অবহেলায় ২০১৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিয়েছে ১৬ শিক্ষার্থী।

সোমবার (২ এপ্রিল) নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বিপাকে পড়েছে ওই শিক্ষার্থীরা। তারা ফলাফল নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় হলে দায়িত্বরত তিন শিক্ষককে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলে- প্রভাষক মো. লুৎফুল হক, রীতামনি ও প্রদর্শক মো. আখের আলী। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, গুরুদাসপুর উপজেলার চারটি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে ১ নম্বর কেন্দ্র বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজে এ বছর দশটি কলেজের ৬১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৩০১ নম্বর কক্ষে ছয়টি কলেজের ৫১ জন শিক্ষার্থীর আসন বিন্যাস রয়েছে। এই কক্ষে ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ সালের পরিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে।

এর মধ্যে বেগম রোকেয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের দুইজন, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি কলেজের মানবিক শাখার একজন, নাজিরপুর ডিগ্রী কলেজের মানবিক বিভাগের একজন, কাছিকাটা স্কুল এ্যান্ড কলেজের দুইজন, রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের চারজন, খুবজীপুর এমহক ডিগ্রী কলেজের ছয়জনসহ মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী (অনিয়মিত) ১৫, ১৬ ও ১৭ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার কথা।

এছাড়া, একই কক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ড. মহসিন আলী কলেজের (নিয়মিত) ৩৬ জন শিক্ষার্থী চলতি সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দেওয়ার কথা। কিন্তু অনিয়মিত ১৬ শিক্ষার্থীর পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা ড. মহসিন আলী কলেজের ১৫ শিক্ষার্থীকে বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া অনিয়মিত ওই ১৬ শিক্ষার্থীদের চলতি সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা ড. মহসিন আলী কলেজের নিয়মিত পরীক্ষার্থী রাসেল রানা, রুনা খাতুন, কাওছার আলী, মারুফ আহমেদ ও সাকিবুল ইসলাম জানায়, তাদের কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দেওয়ার সময় ভুলক্রমে তারা ২০১৬ সালের পুরোনো সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত ওই প্রশ্নপত্র প্রদান করেন। এরপর পরীক্ষা শেষে বিষয়টি তারা বুঝতে পারে। তবে শিক্ষকরা তাদের প্রবেশপত্র দেখে প্রশ্নপত্র দেননি। এখন পুরোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে তারা ফলাফল নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী যুথিসহ বিভিন্ন কলেজের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী জানায়, বুঝতে না পেরে তারা চলতি সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষা শেষে তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষা কমিটির দ্বারস্থ হন। সেখানে শিক্ষকরা ফলাফলের ব্যাপারে তাদের আস্বস্ত করেছেন।

কেন্দ্র সচিব বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম জানান, কম সময়ে প্রশ্নপত্র মিল করতে একটু সমস্যা হয়। ওই তিন শিক্ষককে দায়িত্বে অবহেলার কারণে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।

ad