ঘাটাইলে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বসতভিটা

Ghatail, illegal, sand extraction,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের হাটকয়েড়ায় ঝিনাই নদীতে পাঁচটি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে বালু উত্তোলন। ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতভিটা, ফসলি জমি ও একটি গাইড বাঁধ নদী গর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও বসতভিটা ও ফসলি জমি।

উপজেলা ভূমি অফিসের মৌখিক অনুমতিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান তালুকদার ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান এ বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও এর প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুন মোটা অংকের টাকার মাসোহারার বিনিময়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

Ghatail, illegal, sand extraction,

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের হাটকয়েড়া এলাকার ঝিনাই নদী থেকে ভূমি অফিসের মৌখিক অনুমতি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান তালুকদার ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান পাঁচটি অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন।

সপ্তাহখানেক ধরে তিনটি ড্রেজার বন্ধ থাকলেও রাতদিন চলছে দুইটি বাংলা ড্রেজার। বাকি তিনটি অন্যস্থানে স্থাপন করার কাজ চলছে। যেখানে বাংলা ড্রেজার বসানো হয়েছে, তার ঠিক ৫০ মিটার দূরেই নতুন একটি ব্রিজের কাজ চলছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ওই ব্রিজটি।

স্থানীয় মহির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি উপজেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিলেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুন পরিদর্শনে এসে অবৈধ বাংলা ড্রেজার উচ্ছেদ না করে উল্টো বালু উত্তোলনের জন্য বাংলা ড্রেজারের স্থান নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন।

স্থানীয় বায়েজিদ তালুকদার ও সোমেলা বেগম সংবাদ কর্মীদের কাছে তথ্য তুলে ধরায় তাদেরকে মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানো ও গ্রাম ছাড়া করার ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট ওই প্রভাবশালী মহল।

Ghatail, illegal, sand extraction,

বায়েজিদ তালুকদার জানান, অবৈধ বাংলা ড্রেজার বসানোর পর উপজেলা প্রসাশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুন এসে পরিদর্শন করে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার পরে আরও ড্রেজার বসানো হয়। আবারো লিখিত অভিযোগ করি আমরা। তিনি আবারও এসে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করার অনুমতি দিয়ে যান।

তিনি জানান, যেখানে সারা বাংলাদেশে বাংলা ড্রেজার নিষিদ্ধ, সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুন কিভাবে ড্রেজার চালানোর অনুমতি দেয়? তিনি মোটা অংকের টাকা খেয়েই এ অনুমতি দিয়েছে। আমি এ সত্য বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরায় বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

সোমেলা বেগম বলেন, আমার বসতভিটা অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। চেয়ারম্যান আর মেম্বারদের জানানোর পরেও তারা এটার কোনো বিহিত করে নাই। বাড়ির সামনের রাস্তাটাও নদীতে চলে গেছে। চেয়ারম্যান বলেছে এটা কোনো রাস্তা না। এখন আমি সন্তানদের নিয়ে কই যাবো?

স্থানীয় মহির উদ্দিন জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুন টাকা খেয়েই এই অনুমতি দিয়েছেন। না হলে আমাদের কথা না শুনে কেনই বা বালু তোলার অনুমতি দেবেন?

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুন বলেন, এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার অফিসের লোক পাঠিয়ে ড্রেজার বন্ধ করা হয়েছিল। এখন কোনো বাংলা ড্রেজার চলছে কিনা আমার জানা নেই। এলাকারবাসীর অভিযোগ সত্য নয়। আমি ওই এলাকায় যাইনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ বলেন, ঝিনাই নদীতে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আম্বিয়া খাতুনের ওই এলাকা পরিদর্শন ও মৌখিক অনুমতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

ad