চাটমোহরে শিলাবৃষ্টিতে ৯ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

Pabna Jhor Shila Bristi, Khamar Vanga
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড় এবং স্মরণকালের ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৯ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর ফল ও উঠতি ফসল নষ্ট হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বরাবর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ প্রেরিত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শুক্রবারের শিলাবৃষ্টিতে অসংখ্য ঘরবাড়ির টিন ছিদ্র হয়ে ভেঙে পড়েছে। বড় বড় শিলার আঘাতে প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া অনেকেই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘরবাড়ি ছাড়াও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফসলের। এর মধ্যে আম, লিচু, রসুন, গম ভুট্টা, খেসারীসহ বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার জানান, উপজেলা পরিষদে জরুরি সভা করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসারদের সমন্বয়ে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৯ হাজার পরিবার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগ ঘর ও ঘরের চাল ভেঙে ক্ষতি Pabna Jhor Shila Bristi (2)হয়েছে। এছাড়া কৃষি ও শিক্ষা অফিসকে রবিবারের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। আপাতত কিছু কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশিদ হোসাইনী জানান, চাটমোহরে শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমির উঠতি ফসল ও আম লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে, ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রসুন, ৩ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমির বোরো ধান, ৫০০ হেক্টর জমির গম, ৩২০ হেক্টর জমির ভুট্টা, ৩৬ হেক্টর তিল, ২৫ হেক্টর মুগ ডাল, ৪০ হেক্টর জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ১৫০ হেক্টর আম ও ৮০ হেক্টর লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মকবুল হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার, পৌর মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মিয়াসহ অনেকে।

পরে সংসদ সদস্য শিলার আঘাতে আহতদের দেখতে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সবিজুর রহমানের হাতে তুলে দেন।

ad