চাটমোহর বালিকা বিদ্যালয়ে ‘ইমার্জেন্সি প্যাড কর্ণার’ চালু

pabna
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: হঠাৎ করে পিরিয়ড হওয়া ছাত্রীদের তাৎক্ষণিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পাবনার চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হলো ‘ইমার্জেন্সি প্যাড কর্ণার’। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজনেরা।

শনিবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় এক অনুষ্ঠানে ‘ইমার্জেন্সি প্যাড কর্ণার’ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার। ‘ডোনেট এ প্যাড ফর হাইজিং বাংলাদেশ’ ও ‘বজ্রমুষ্ঠি ফাউন্ডেশন’ এর যৌথ উদ্যোগে এই ইমার্জেন্সি প্যাড কর্ণার স্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পিরিয়ড ও বয়োঃসন্ধিকাল সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরে বিদ্যালয় চত্বরে একটি গাছের চারা রোপন করেন অতিথিরা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসাহাক আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘ডোনেট এ প্যাড ফর হাইজিং বাংলাদেশ’র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মার্জিয়া প্রভা।

উদ্যোক্তারা জানান, স্কুলে গিয়ে হঠাৎ করে পিরিয়ড শুরু হলে বিপাকে পড়ে ছাত্রীরা। তারা সহপাঠী ও শিক্ষককে বিষয়টি বলতেও সংকোচ বোধ করে। এখন থেকে স্কুলের একটি নির্ধারিত স্থানে থাকবে ইমার্জেন্সি প্যাড কর্ণার।

সেখান থেকে সহজেই ছাত্রীরা প্যাড ব্যবহার করে সেই সমস্যা থেকে রেহাই পাবে। ছাত্রীরা প্যাড কর্ণারে ৫ টাকা করে রাখবে যাতে জমানো টাকা দিয়ে পরবর্তীতে তারা নিজেরাই প্যাড কিনে রাখতে পারে।

বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রী জানান, ক্লাসে এসে হঠাৎ করেই পিরিয়ড শুরু হলে বিপাকে পড়তে হয়। কাউকে জানাতে লজ্জা ও সংকোচ বোধ হয়। শরীরের মধ্যেও অস্বস্তি লাগে। বিদ্যালয়ের টয়লেট বা বাথরুমের পাশে স্থাপন করা এই প্যাড কর্ণার তাদের খুব উপকারে আসবে। এখন আর লজ্জা বা সংকোচ হওয়ার কোনো ভয় নেই। প্যাড কর্ণার পেয়ে তারা উচ্ছ্বসিত।

চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ইসাহাক আলী জানান, নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো ও সুন্দর উদ্যোগ। এমন সৃজনশীল চিন্তা আমাদের মাথায় আসেনি। আমরা উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। আমি মনে করি, এই ‘ইমার্জেন্সি প্যাড কর্ণার’ প্রতিটি স্কুল-কলেজে চালু হওয়া উচিত। তাহলে মেয়েরা অন্তত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পিরিয়ডের সমস্যা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

ad