চুয়াডাঙ্গার ঈদ বাজারে বাজরাঙ্গি ভাইজান, বাহুবলীর রাজত্ব

ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঈদের আগে জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার ঈদ বাজার। মানুষের পদচারণায় মুখরিত জেলার মার্কেটগুলো। ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের চেয়ে হিন্দি সিরিয়াল ও সিনেমার বিভিন্ন নায়িকাদের নামানুসারে থ্রিপিসের পাশাপাশি এবার নতুন আইটেম যোগ হয়েছে। পোশাকের মধ্যে রয়েছে বাজরাঙ্গি ভাইজান, বাহুবলী, দিলওয়ালে, বাজিরাও মাস্তানি, সুলতানিয়া, ফ্লোরটার্চ, মাসাক্কালি, আশিকি, আনারকলি ও লং কামিজ।

পুরুষদের ফ্যাশনে এবার শর্ট পাঞ্জাবি ছেড়ে মাঝারি, মিনি লং বা সেমি লং পাঞ্জাবির চলনই বেশি। গত ঈদের তুলনায় এবার ক্রেতাদের মাঝে এসেছে কিছু ভিন্নতা। শিশুদের পোশাকের মধ্যে জাজবা, তামাশা, শ্যাঙ্খচুই, পাখি, নীলপরি, জয়া, রামলীলা, লেটপার্টি, রোহী ইত্যাদি নানা নামের বাহারি রঙ-বেরঙের বেশ কয়েকটি নতুন পোশাক।

এছাড়া, ভারতীয় সিরিয়ালের নামে কিরণমালা, ইস্কেলিলা, বিন্দাস, কটকটি, বজ্রমালা, হদিসমালা, ফ্লোরটার্চ, জলপরি, ইচ্ছেনদী, পারি, ঝিলিক, রাজকন্যা, লাবণ্য, ঝিলমিল, পাটিয়ালি, শঙ্কমালা, নন্দিনী, পাখি, জলনুপুর উল্লেযোগ্য। বিক্রেতারা জানান, এবার বাহুবলী-২’র মাহেশমাতি পোশাক বড়দের এবং জাজবা, তামাশা, শ্যাঙ্খচুই ছোটদের নজর কাড়বে।

Chuadanga, Eidbazar, Bajrangi Bhajan, Bahubali, and Ripasha

এছাড়াও ভারতীয় ডিজাইনের কাপড় ও শাড়ির সংগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। ভারতের কাশ্মীরের ডিজাইন, সিকোয়েন্সের কাজ, জরি-সুতোর বাহারি নকশার শাড়ি, পাকিস্তানী ঝলমলে কাপড়ে বাহারি সুতোর কাজ করা কাপড়, উজ্জ্বল রঙের জর্জেট, টিস্যু প্রভৃতি কাপড়ে জরি, চুমকি, সুতি কাপড়ে দেশীয় আল্পনার সুতো, এপিক ও স্ক্রিন-ব্লক-বাটিকের পোশাক সম্ভার দারুণ আকর্ষণ করছে ক্রেতাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আরামদায়ক ও সুতির রুচিসম্মত পোশাকই বেশি। মহিলা ও তরুণীদের ক্ষেত্রে দেশী-বিদেশী টেলিভিশন সিরিয়ালের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর পোশাকের প্রভাব ও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ধারার বজায় রেখে ওই ঘরানার পোশাকও তুলেছেন বিক্রেতারা।

পুরুষদের ক্ষেত্রে দেশী ব্রান্ডের মধ্যে ফেইথ-১১, ক্যাটস আই, মনসুনরেইন, নেক্সট, শীতল, প্লাস পয়েন্ট, রঙ, রেক্স, সপুরা সিল্ক, হ্যান্ডিবাজার, প্রভৃতির সাথে ভারত-পাকিস্তানের নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি, চীন-থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট-প্যান্ট ও টি-শার্টের সমাহার উল্লেখ করার মতো।

ঈদের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে থরে থরে সাজানো নামিদামি ব্র্যান্ড ও বিদেশী পোশাকের পসরা। ফ্যাশনের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি গ্রাহকতুষ্টির দিকে খেয়াল রেখে দোকানের সাজ-সজ্জাতেও এসেছে নান্দনিক পরিবর্তন। শহরের সমবায় নিউমার্কেট, প্রিন্সপ্লাজা মাকের্ট, মুনসুপার মার্কেট ও পুরাতন গলিসহ সব এলাকার মার্কেটের চিত্র প্রায় অভিন্ন।

বিক্রেতারা বলেন, সারা বছর কেনাকাটা থাকলেও তাদের প্রধান বিক্রি মৌসুম পবিত্র ঈদুল ফিতর কেন্দ্রিক। সবাই তাই পুরো বছর ধরে অপেক্ষায় থাকেন এ সময়টার জন্য। রমজানের শুরু থেকেই মার্কেট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ক্রেতারা। তবে শেষ ভাগেই বেশি জমজমাট হয় বাজার। বেচা-বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট।

এদিকে, নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ভরসার জায়গা ফুটপাতের বিক্রেতারাও ব্যস্ত ঈদের কেনাকাটা ঘিরে। স্বল্প আয়ের মানুষরা সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটার জন্য বেছে নিয়েছেন ফুটপাতকে।

ad