চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুত ১ লাখ ৬১ হাজার কোরবানির পশু

Chuadanga Gorur Hat
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ছোট-বড় গরুর খামারিরা গরু পরিচর্যার ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু না এলে খামারিরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

এবার কোরবানিকে সামনে রেখে ৭ হাজার ২৩৫টি খামারে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৫টি প্রস্তুত রয়েছে। গত ঈদে জেলায় পশু কোরবানি দেয়া হয়েছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮টি। এবার গতবারের তুলনায় ১৭ হাজার ১৩৭টি বেশি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গার ৪ উপজেলায় গতবারের তুলনায় এবার প্রায় বিশ হাজার পশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭৯টি খামারে কোরবানির জন্য সম্ভাব্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৮ হাজার ৮৮৩টি পশু। দামুড়হুদা উপজেলায় ১ হাজার ৩১৫টি খামারে সম্ভাব্য কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২৭ হাজার ৫১৭টি পশু।  আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২ হাজার ৮৭১টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে ১১ হাজার ৮৮৪টি পশু।  সব মিলিয়ে ১ লাখ ৬১ হাজার পশু রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএইচএম শামিমুজ্জামান বলেন, কোরবানি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় চাহিদার তুলনায় বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। গরুর খামার থেকে বাজারে বিক্রয় পর্যন্ত যথাযথ মান ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গরু পালনকারীরা জানান, সারা বছর খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো হয়। এবং ঈদের ২ মাস পূর্বে খড়, খৈল, কুড়া, ও ভুষি খাওয়ানো হয়। বছরে যে খাবার লাগে অধিকাংশ খাবারই বিলের কাচা ঘাষ।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গার পশুর হাটগুলোতে ইতোমধ্যে কোরবানির পশু নিয়ে ভিড় করতে শুরু করেছেন খামারিরা। ক্রেতারাও ছুটছেন পশুর হাটে। অনেকে গরু-ছাগল কিনে কোরবানির জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। পশুর ব্যাপক আমদানির ফলে দর পড়ে যাওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঘোড়ামারা ব্রিজের নিকট পৌর পশুর হাট প্রতি রবিবার, বদরগঞ্জ পশুর হাট শনিবার, সরোজগঞ্জ গরুর হাট শুক্রবার এবং ছাগলের হাট সোমবার বসে। এছাড়া আলমডাঙ্গা পৌর পশুর হাট প্রতি বুধবার, জামজামি ও ঘোষবিলা পশুর হাট সোমবার, পারলক্ষ্মীপুর পশুর হাট রবার, গোখুলখালী পশুহাট শুক্রবার, হাটবোয়ালিয়া পশুহাট শনিবার, ডুগডুগি পশুহাট সোমবার এবং শিয়ালমারী পশুর হাট প্রতি বৃহস্পতিবার।

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানি সামনে রেখে দূর-দূরান্ত থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ট্রাক, নসিমন, করিমন, পাওয়ারট্রিলারে গরু ও ছাগল নিয়ে আসছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে গত সপ্তাহে বেচাকেনা জমে উঠলেও এবার দরপতনে বিক্রেতাদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটে ব্যাপক আমদানি হওয়ায় প্রতিটি গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। মৌসুমের সর্বোচ্চ পশু আমদানি হয় এ ডুগডুগি হাটে।

জানাগেছে, প্রতিটি হাটে ৬০ হাজার টাকার গরু ৫০ হাজার টাকা, ৫৫ হাজার টাকার গরু ৪০ হাজার টাকা ও ৯০ হাজার টাকার গরুর ৮৫ হাজার টাকা দর উঠেছে। এত কমে বিক্রি করতে হলে ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার আশেপাশের জেলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে গরু-ছাগল রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি ভারতীয় গরু আমদানি হয়, তাহলে পশু পালনকারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্দশার শেষ থাকবে না বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কয়েকজন ব্যাপারী। গরু-ছাগলের ব্যাপক আমদানিতে শুধু ব্যাপারীরা নয় পালনকারীরাও বিক্রি নিয়ে শঙ্কিত। পশু পালনের খরচ বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় এ খাত আস্তে আস্তে লোকসানের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেক খামারী।

ad