চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ!

Dinajpur
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুর খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমানের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশাদ আলীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে তার বেয়াইকেও মারধর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রেজুলেশনসহ লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের মাধবপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশাদ আলী একই গ্রামের সেকেন্দার আলীর কাছ থেকে ৫ শতাংশ জমি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় দামদর ঠিক করেন। সেই মোতাবেক নওশাদ আলী জমির মালিককে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বায়নামূল্য নগদে পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট টাকা দলিলমূলে রেজিষ্ট্রি করার সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিক সেকেন্দার আলী জমি রেজিষ্ট্রি দিতে তালবাহনা করতে থাকেন। এ ব্যাপারে নওশাদ আলী সম্প্রতি খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমানের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগটি আমলে না নিয়ে উপরোন্ত জমির মালিককে অন্যত্র জমি বিক্রির ইন্ধন দেন ওই চেয়ারম্যান। বিষয়টি জানতে পেরে নওশাদ আলী ও তার বেয়াই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগটি সম্পর্কে জিঞ্জাসা করলে চেয়ারম্যান তার বেয়াইয়ের শার্টের কলার ধরে মারধর করে গ্রাম পুলিশ দিয়ে একটি ঘরে বন্ধ করে রাখেন।

তখন নওশাদ আলী প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান তাকেও উপস্থিত লোকজনের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশাদ আলীকে মারধর করায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে শনিবার পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশন করা হয়। ওই সভায় ৭০ জনের মতো মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওইদিন বিকেলেই দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রেজুলেশনের কপি দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নওশাদকে আমি মারধর করিনি। তিনি আমার কাছে অভিযোগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি জমি বায়নানামা নিয়ে অন্য ৩/৪ জনের কাছে ওই জমি বিক্রি করার জন্য টাকা নিয়েছেন। ঘটনাটি জানার পর তাকে বললে তিনি এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এখানে ওই সময় এলাকার অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানান চেয়ারম্যান।

ad