জামালপুরে অবাধে চলছে ‘শিশুশ্রম’, দর্শকের ভূমিকায় প্রশাসন

child labour
ad

স্থানীয় সংবাদদাতা: সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের বিমাতাসূলভ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যুগ যুগ ধরে পশ্চাৎপদতার অন্ধকারে আচ্ছাদিত ছিলো দেশের যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত জামালপুরের জনপদ। এই জনপদের দারিদ্রপিড়িত মানুষ প্রতিনিয়তই যুদ্ধ করে আসছেন যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে ভয়াবহ ভাঙ্গন ও বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে।

ভয়াবহন নদী ভাঙ্গন রোধ এবং পশ্চাৎপদ এই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড গ্রহণ করায় এই অঞ্চলের হতভাগ্য মানুষের ভাগের অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তবে পরিবর্তন হয়নি এই জেলার হতভাগ্য ছিন্নমুল বা দরিদ্র শিশুদের।

নদী ভাঙ্গনে বাস্তহারা শত শত পরিবার দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরীত হয়ে আশ্রয় নিয়েছে উপজেলা ও জেলা শহরে। আর এসব পরিবারের দুর্ভোগের বোঝা বইতে হচ্ছে হত্যভাগ্য অনেক শিশুদের। এসব শিশুদের যে সময় বই খাতা নিয়ে তাদের স্কুলে যাবার কথা। সে সময় তারা পরিবারের আর্থিক সহায়তায় শ্রমের মাধ্যমে দু’পয়সা রোজগার জন্য বিভিন্ন কল-কারখানা ফ্যাক্টরী, স্বায়িত্বশাসীত প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরা, ওয়েল্ডিং কারখানা, দোকান-পাট , হাটবাজারে-ট্রেনে হকারি ও রাস্তায় টোকাই হিসেবে কাজ করে আসছে পরিবারের অভাবের তাড়নায়। এতে মানসিক বিকাশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সার্বিক দিক থেকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এসব শিশুরা।

জাতিসংঘের শিশু সনদ অনুযায়ী এদেশে সরকারি ভাবে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও শিশু সংগঠণগুলো রহস্যজনক নিরবতার কারণে জামালপুরে প্রতিটি কল-কাখানা ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরীসহ অলিতে-গলিতে প্রকাশ্যে শিশু শ্রম চলে আসছে।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে সকল শিশুর অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। শিশু অধিকার বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও শিশু সংগঠনগুলো যথাযথ উদ্যোগ নিবে এমটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

ad