ঝাড়ফুঁক দিয়ে ক্যান্সার সহ সকল রোগের চিকিৎসা করেন রোজিনা!

Chanting, Treatment of All Diseases, Rozina,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ক্যান্সারসহ সকল রোগের চিকিৎসা ঝাঁড়ফুক দিয়ে করছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের ফকির রোজিনা বেগম। তাবিজ কবজ, ঝাঁড়ফুক, তেল ও পানিপড়া তার মূল দাওয়া। তার এমন ভণ্ডামি কর্মকাণ্ডে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার (১ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফকির রোজিনার বাড়িতে শত-শত লোক আসছে, তদবির নিয়ে চলে যাচ্ছে। রোজিনার টেবিলের সামনে তৈল ও পানির বোতল রয়েছে, হাতে কোরআন শরীফ।

আপনি কোরান শরীফ পড়তে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে পারতাম না এখন একটু একটু পারি।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন তার বাড়িতে। উপকার পেয়েছেন এমন লোক পাওয়া ভার। দ্রুত প্রশাসনকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পাতাকাটা গ্রামের মো. সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী রোজিনা বেগম দীর্ঘদিন ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

দাওয়া নিতে আসা কয়েকজনকে বলেন, ফকিরের খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। ফিকির (দাওয়া) নেয়ার পরে বুঝা যাবে কি হয়?

আমতলী পৌর শহরের শিরিন সুলতানা এসেছেন কন্ঠনালীর সমস্যা নিয়ে। ফারজানা নামের অজ্ঞান এক রোগী এসেছে দাওয়া নিতে। তাদের ভণ্ড ফকির ঝাঁড়ফুক দিচ্ছেন। কলাপাড়া থেকে মোমেনা বেগমসহ ১০ জন এসেছেন বিভিন্ন রোগের তদবির নিতে।

জানতে চাইলে মোমেনা বলেন, মানুষের কাছে শুনেছি ভালো হয়, তাই আমরাও এসেছি।

আমতলীর চলাভাঙ্গা গ্রামের বাবুল ফরাজী জানান, সারা শরীরের ব্যাথা নিয়ে ফকির রোজিনার কাছে গিয়েছিলাম। ঝাঁড় ফুক, তাবিজ, তৈল ও পানি পড়া দিয়েছে কিন্তু আমি কোন উপকার পাইনি।

চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের জুয়েল সন্যামত জানান, হারানো স্বর্ণের চেন খুঁজে বের করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ফকির রোজিনা আয়নাপড়ার নামে ধোকা দিয়েছে।

রোগী প্রতি রোজিনা হাদিয়া নেন ১২০ টাকা। ফকির রোজিনা ক্যান্সার, পক্ষাঘাত, লিভারে সমস্যা, জন্ডিস, জীন-ভূত, শরীরে ব্যথা, গ্যাস্টিক, আলসার, বন্ধ্যা, পেটের চর্বি কমানো ও হাঁপানিসহ সকল রোগের চিকিৎসা করেন। যেকোনো ধরনের রোগী গেলে তাকে ফিরে যেতে হয় না।

তার দাওয়াই সকল মুশকিল আছান করে বলে জানান রোজিনা। এছাড়া তিনি আয়নাপড়া ও বাটি চালানোর মাধ্যমে হারানো জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারেন। কোনো রোগী গেলেই তার দেবর সুমনকে বলেন, মাইজ্জা মেয়া ওই রোগীকে সূরা ফালাক ও নাস পড়ার নিয়ম বলে দেন। মাইজ্জা মেয়াই তার ঝাঁড়ফুকের প্রধান সিপাহী। এমনকি তিনি পশুরও চিকিৎসা করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ ভণ্ড ফকির কোরআন ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে টাকা কামাচ্ছে। এটা নিছক ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই না। ভণ্ড ফকির রোজিনা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। অনতিবিলম্বে এ ভণ্ড ফকিরের হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ভন্ড ফকির রোজিনা বলেন, গত ছয় মাস পূর্বে জলের পীর খোয়াজ খিজিরকে (আঃ) স্বপ্নে দেখি। তিনি আমাকে তদবির (চিকিৎসা) দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তদবির দিতে চাইনি। তিনি স্বপ্নে আমাকে বলেছেন, যদি তদবির না দাও তাহলে তোমার সমস্যা হবে। তাই বাধ্য হয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখান থেকে অর্জিত টাকা বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় দিতে হয়।

তিনি বলেন, আমি ক্যান্সারসহ সকল রোগের চিকিৎসা দেই। পক্ষাঘাত রোগীকে চিকিৎসা দিলে সাতদিনের মধ্যে ভালো হয়। পবিত্র কোরআনের আয়াত দিয়ে ঝাঁড়ফুক, তেল ও পানিপড়া দেই। এতেই আল্লাহ ভালো করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ঝাঁড়ফুক দিয়ে চিকিৎসা করা এটা নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না। দ্রুত প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

আমতলী থানার ওসি মো. সহিদ উল্যাহ বলেন, এ বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad