টানা বর্ষণে দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

Dinajpur Rain
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: টানা বর্ষণে দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিদ্যালয় মাঠ, বিভিন্ন ফসল, খাল-বিল, ডোবা-নালাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণের ফলে দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষ। দাম বেড়েছে সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের।

গত বুধবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত শনিবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত থেমে থেমে চলছে।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২১৬ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ৬০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সুজালপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা। পানিবন্দী মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে স্থানীয় বলদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং সুজালপুর ইউনিয়নের উত্তর মাকড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. কেএম কুতুব উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনকে জানিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া পরিবারের মাঝে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন প্রকার সাহায্যে প্রদান করা হয়নি।

এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ওই এলাকার সহস্রাধিক মানুষ। কাজে যেতে না পেরে পরিবার নিয়ে অসহায় দিনযাপন করছে খেটে খাওয়া মানুষ।

মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার অটোরিক্সা চালক আনোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই। তাই দুই দিন ধরে কিস্তি দিতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে আজ বৃষ্টিতে বেড়িয়ে পড়েছি।

চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীবন্দর এলাকায় দিন মজুর মোহাম্মদ আলী জানান, দুই দিন ধরে কোন কাজ নেই। তাই আজ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কাজের সন্ধানে রাণীরন্দর বাজারে এসেছি। অপেক্ষা করেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোন কাজের সন্ধান মেলেনি।

টানা বর্ষণে আগুন লেগেছে জেলার বিবিন্ন উপজেলার কাঁচা বাজারে। মরিচ এবং পিয়াজের ঝাজ বেড়েছে আরও একদফা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সজবিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক পণ্য।

গত বৃহস্পতিবার বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা হলেও শনিবার ৬৫ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৩০ টাকা। আজ তা ১৪০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এ ছাড়াও আলু ২০, পটল ৩০ ও বেগুন ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সাবির হোসেন।

তিনি জানান, বৃষ্টির ফলে পণ্যের আমদানী কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। আবার বাজারে ক্রেতার অভাবে অনেক পণ্য পচে যাওয়ার কারণে অনেকে দোকান বন্ধ রেখেছে। বৃষ্টি থেমে গেলে মালামাল আমাদানি স্বাভাবিক হবে এবং দামও কমে যাবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার সিদ্দিকুর রহমান জানান, টানা বর্ষণে এলাকার নদনদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। পুনর্ভবা নদীর পানি এবং আত্রাই নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যার আশঙ্কা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি জানান, আমরা বৃষ্টিপাতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি।

ad