ট্রেনে কাটা পড়া বৃদ্ধের মৃত্যু সেলফিবন্দী!

Train, old age, death, selfie,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আব্দুল মোতালেব নামের একজন বৃদ্ধ রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ওই ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর এই ট্রেনের ধাক্কা লাগার পূর্ব মুহূর্তের একটি বিরল ছবি গোলাপ হোসেন নামের একজনের সেলফিতে বন্দী হয়ে যায়।

শুক্রবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ছোট লক্ষিপুর গ্রামে ঢোকার মুখে রেললাইনের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত আব্দুল মোতালেব হোসেন পঞ্চক্রোশী উনিয়নের পঞ্চক্রোশী গ্রামের তাবলীগ জামাতের জিম্মাদার ছিলেন।

জানা যায়, উল্লাপাড়া চক্ষু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স গাড়ির ড্রাইভার গোলাপ হোসেন ওই সময় রেললাইনের পাশে দাড়িয়ে শখের বসে মোবাইল ফোনে ট্রেনসহ নিজের একটি সেলফি তুলছিলেন।

এ সময় হঠাৎ করে পঞ্চক্রোশী গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেব রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ওই ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ট্রেনের ধাক্কা লাগার পূর্ব মূহুর্তের একটি বিরল ছবি তার সেলফিতে বন্দী হয়ে যায়।

ড্রাইভার গোলাপ হোসেন জানান, ওইদিন তার বস ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ৮-১০ জনকে তার গাড়িতে নিয়ে ওইস্থানে নামিয়ে দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। একটি ট্রেন আসতে দেখে তিনি সখের বসে ট্রেনসহ নিজের সেলফি তুলছিলেন। এ সময় ট্রেনের ধাক্কা লেগে এক বৃদ্ধ তার ওপর আছড়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করার পর দেখা যায় ওই বৃদ্ধটি এরইমধ্যে মারা গেছেন।

গোলাপ হোসেন জানান, তিনি ওই বৃদ্ধর মৃতদেহের একটি ছবি তোলেন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি যে, তার অজান্তেই ওই সেলফিতে বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেবের মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তের ছবি ধারণ হয়েছে। বাসায় ফিরে পরিচিতদের ওই নিহত ব্যক্তির মৃতদেহের ছবি দেখাতে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার সেলফিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দী হয়ে গেছে।

তিনি জানান, আব্দুল মোতালেব তার এক সহকর্মীর কবর জিয়ারতে অংশ নিতে দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এ মর্মান্তিক মুত্যুর ঘটনাটি ঘটে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার এক সহকর্মী পোষ্ট দিলে তা মূহুর্তে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিহত আব্দুল মোতালেব হোসেনের তাবলীগের সাথী ভাই মাহমুদুল হাসান সোহেল নিশ্চিত করেছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনার পরপরই আমি নিহতর বাড়িতে ছুটে যান এবং আর্থিক সহযোগিতা করি। আমি তার স্ত্রীর নামে একটি বিধবা কার্ড ও তার দুটি এতিম সন্তানের লেখাপড়ার খরচের জন্য আরও কিছু অর্থ সহায়তা করবো।

ad