ডিম পেড়েছে খান জাহানের মাজারের কুমির

Kumir
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজার শরীফের দিঘীর মিঠা পানির মা কুমির আবারও ডিম পেড়েছে।

গত শনিবার ও রবিবার দিঘীর মা কুমিরটি আবারও ৬৫ থেকে ৭০টি ডিম পাড়ে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোদের মধ্যে দিঘীর উত্তর পাড়ে মা কুমিরটি মাটি আঁকড়ে আছে। সেখানে গর্ত খুঁড়ে ডিম ঢেকে রেখেছে ওই মাদি কুমিরটি। ডিম পাড়ার পর এখন বাচ্চা ফুটানোর জন্য তা দিচ্ছে। আগ্রহী মানুষ কাছে গেলেই তেড়ে আসছে কুমিরটি। সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে মাজারের খাদেমরা।

অনেকে কুমিরের ডিম দেখতে ভিড় করছেন সেখানে। মা কুমিরটি ডিম মাটির ধুলো দিয়ে ঢেকে রেখে বাচ্চা ফুটাবার জন্য ‘তা’ দিতে থাকায় ডিমের সঠিক সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবারের মত এবারও মাজারের kumir 2খাদেমরা দিঘীর কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা জম্ম নেবে এমন প্রত্যাশা করছেন।

খানজাহানের মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী ফকির  জানান, গত শনিবার রাতে ও রবিবার সকালে মা কুমিরটি দিঘীর উত্তর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০টি ডিম পেড়েছে। ওই ডিম ধুলামাটি দিয়ে ঢেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য এখন তা দিচ্ছে কুমিরটি। মাঝে মধ্যে খুব অল্পসময়ের জন্য কুমিরটি দিঘীতে নেমে আবার ফিরে আসছে ডিমে তা দিতে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত কুমিরটি ডিমে তা দেবার পর বাচ্চা জন্মাবে এমন প্রত্যাশা মাজারের প্রধান খাদেমের।

মাজারের প্রধান খাদেম আরও জানান, হযরত খানজাহান (রহ.) এ দিঘিতে কালাপাড় ও ধলাপাড় নামে দুটি কুমির লালন-পালন করতেন। ওই জুটির কোনো বংশধর এখন আর বেঁচে নেই। এখন ভারত সরকারের দেওয়া মিঠা পানির কুমির দিঘির শেষ সম্বল। কয়েক বছর ধরে এই দিঘীর মাদি কুমিরটি ডিম পাড়লেও তাতে বাচ্চা ফুটছে না। কুমিরের বংশবৃদ্ধি না হলে দিঘীটি তার সাড়ে ৬শ বছরের ঐতিহ্য হারাবে। তাই দিঘিতে কুমিরের বংশবৃদ্ধি ও সংরণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুজ্জামান খান জানান, দিঘীতে বর্তমানে মিঠা পানি প্রজাতির একটি পুরুষ ও একটি মা কুমির রয়েছে। কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ভাবেই চেষ্টা করেও ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো যায়নি। মা কুমিরটিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। পুরুষ কুমিরটির শুক্রাণু মা কুমিরটির ডিম্বাণুতে যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন না হবার ফলে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটছে না। তা ছাড়া শতভাগ সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় পুরুষ কুমিরটির শুক্রাণুর সমতা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হযরত খানজাহান (রহ.) আমল থেকে প্রায় সাড়ে ৬শ বছর ধরে মাজারের দিঘিতে ‘কালাপাড়’ ও ‘ধলাপাড়’ নামের মিঠা পানির কুমির বংশ পরাম্পরায় (মার্স কোকোডাইল) বসবাস করে আসছে। তবে, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খান জাহানের আমলের কুমিরের শেষ বংশধরটি মারা যায়। এখন ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ফার্ম থেকে পাওয়া ছয়টি কুমির খান জাহানের দিঘীতে আছে।

ad