ডোমারে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মানববন্ধন

Domar, human chain,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে গত ১০ মে রাতে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল, আমন ধান রোপণে সহযোগিতা, কৃষি ঋণ, বৈদ্যুতিক বিল, এনজিও ঋণ মওকুফের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ মে) বেলা ১১টায় উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের কাচারী বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আয়োজনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বামুনিয়া ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অংশ নেন।

রনজিৎ কুমার অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বামুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মমিনুর রহমান অংশ নিয়ে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, ঝড়ের আটদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কেউ এসে আমাদের খোঁজ নেয়নি। বৃহস্পতিবার নামমাত্র কিছু মানুষকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

বামুনিয়া ৬নং ওয়ার্ডের মৃত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী জিন্নাহ বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ঝড়ে আমার তিনটি ঘর পড়ে গেলেও আমাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। ঘরে কোনো খাবার না থাকায় প্রথম সেহরীতে শুধু পানি খেয়ে রোজা আছি।

৭নং ওয়ার্ডের মুক্তা বেগম বলেন, তার দুইটি ঘর পড়ে গেলেও কোনো সহযোগিতা পায়নি।

বক্তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বামুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান বুলেট জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নের প্রায় ছয় হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৬ মেট্রিক টন চাল ১৬০০ ব্যাক্তির মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে রাতে ডোমারের ওপর দিয়ে স্মরণকালের প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড়ে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ঝড়ে আট হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় ৫৫ হাজার পরিবার হয় ক্ষতিগ্রস্ত, মারা যান চারজন। ক্ষেতে ধান দেখতে গিয়ে জমিতে কোনো ধান না থাকায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যায় আরও একজন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ফাতিমা জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ad