ডোমারে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে বিদ্যালয়

River bed, billiard, secondary school,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ৫৪নং সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। বৃষ্টিপাতে ক্লাসরুম ও বিদ্যালয় রক্ষার মাটি ভেঙে পড়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বিদ্যালয়ের সংস্কার করা হয়নি। ভারি বর্ষণে বিদ্যালয়ের পাশের একটি গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এখনই সংস্কার করা না গেলে ২/১ দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইতিমধ্যে শ্রেণিকক্ষের তিনটি ক্লাসরুম বিলীন হয়ে গেছে। ডোমার শালকী নদীর পাশেই রয়েছে বিদ্যালয়টি। এ নিয়ে একাধিকবার সংবাদ পরিবেশন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নদী ভাঙনে বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ জায়গা ভেঙে পড়ে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের মেঝেতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা মো. শাহজাহান মন্ডলকে জানানো হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি বিদ্যালয়ের জন্য কোন ভূমিকা রাখেননি। এমনকি উপজেলায় চলতি মেয়াদে ১৩টি বিদ্যালয়ে এক লক্ষ টাকা করে সংস্কারের জন্য দেয়া হলেও ওই বিদ্যালয়টি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

গত বছর বর্ষায় শিশু শ্রেণির রুমটি ভেঙে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিদ্যালয় ভবন। কোনোমতে বাঁশের খুটি দিয়ে বিদ্যালয় কক্ষগুলো রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্লাসরুম ভেঙে পড়ায় দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নিতে হয় খোলা আকাশের নিচে। বিদ্যালয়টি সংস্কার না করায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রবল বৃষ্টিপাতের দরুণ বিদ্যালয় পর্যন্ত নদী ভাঙন শুরু হলেও সেটি রক্ষার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি শিক্ষা অফিস।

নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর হাচিনুর রহমান নিজস্ব উদ্যোগে স্কুলে মাটি ভরাট করলেও তা যথেষ্ট নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি এক সময় শালকী নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকবৃন্দ।

এক অভিভাবক জানান, প্রায় তিন বছর হতে চললো বিদ্যালয়টির এই অবস্থার। মেরামত না করায় স্কুলের মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাচ্ছে। একাধিক শ্রেণীকক্ষ ভেঙে পড়ার কারণে বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সামান্য বাতাসে নড়ে উঠছে বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো। সংস্কার না হওয়ায় বিদ্যালয়ের কাঠ ও ইটগুলো নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে।

১৯৫৮ সালে ৫৩ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের পর থেকে কোন সংস্কার করা হয়নি। ভাঙাচোরা রুমে কোনমতে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তাছাড়া, ক্লাসরুমের একটি অংশ বর্ষার পানিতে ভেঙে পড়ায় ওই স্থানে মাটি ভরাট না হওয়ায় ভারি বর্ষণে একাধিক শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা জানান, বিদ্যালয়ের এই অবস্থার বিবরণ জানিয়ে একাধিকবার উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কাজ হয়নি। বিদ্যালয় মেরামতের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। লিখেও কোন লাভ হবে না বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুইদিনের ভারি বর্ষণে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো ভেঙে পড়েছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হাচিনুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি সংস্কার করা জরুরি। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণরুপে ভেঙে পড়তে পারে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান মন্ডল জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে একাধিকবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুন) এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আবার জানানো হবে।

ad