তালতলীতে লবনাক্ত পানিতে তলিয়েছে ধানক্ষেত-পুকুর

Taltali, saline water,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ নতুন বাঁধের মাঝখানে ফাঁদ পেতে দুইজন প্রভাবশালী মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফাঁদ দিয়ে লবনাক্ত পানি ঢুকে ওই এলাকার ইরি ধানের মাঠ ও মিঠা পানির পুকুর তলিয়ে গেছে। এতে মিঠা পানির সংকট, ইরি ধানের মাঠের ক্ষতি এবং বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানাগেছে, তেতুঁলবাড়ীয়া গ্রামের পায়রা নদী সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ গত বছর ভেঙে গেছে। ওই ভাঙা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে তিন গ্রাম প্লাবিত হয়। গত এপ্রিল মাসে নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ ১ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কার করে।

এদিকে, স্থানীয় প্রভাবশালী রেজাউল হাওলাদার ও এমাদুল হাওলাদার ওই সংস্কারকৃত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাঝখানে রিং বসিয়ে মাছের ফাঁদ তৈরি করে। গত ১০ দিন ধরে ওই ফাঁদে পায়রা নদীর জোয়ারের লবনাক্ত পানির সাথে উঠে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে তারা।

লবনাক্ত জোয়ারের পানিতে তেতুঁলবাড়িয়া, নলবুনিয়া ও পশ্চিম গোড়াপাড়া গ্রামের ইরি ধানের ক্ষেত এবং ওই এলাকার অর্ধশতাধিক মিঠা পানির পুকুর লবনাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মিঠা পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং ইরি ধান চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা।

ফাঁদের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ফাঁদ পেতে মাছ শিকার বন্ধ করার কথা জানালেও প্রভাবশালীরা তা মানছে না। তারা প্রতিদিন মাছ শিকার করছে।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. নুরু সিকদার বলেন, ফাঁদ পেতে লবনাক্ত পানি ঢুকাতে নিষেধ করা সত্ত্বেও রেজাউল ও এমাদুল তা মানছে না।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলম হাওলাদার বলেন, ১ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ সংস্কার করেছি। ওই বাঁধের মাঝখানে রিং বসিয়ে ফাঁদ পেতে মাছ শিকার করছে রেজাউল ও এমাদুল। এতে বাঁধ ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লবনাক্ত পানি ঢুকাতে নিষেধ করলেও প্রভাবশালীরা তা মানছে না।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. ফারজানা আক্তার বলেন, যারা বাঁধে রিং বসিয়ে মাছ শিকার এবং লবনাক্ত পানি ঢোকাচ্ছে, খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad