দলিল লেখককে হাতুড়ি পেটা করায় কাউন্সিলর আটক!

Hammer wounds, councilors, detainees,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দলিল লেখক কাজী রেজাউল করিমকে (৩৮) হাতুড়ি পেটা করার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পৌর সদরের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর সদরের মকলেসুর রহমান কারিগরি কলেজে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলিল লেখক রেজাউলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ সময় স্থানীয়রা আহত দলিল লেখক রেজাউলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থা বেগতিক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রেজাউল করিম পারগুরুদাসপুর মহল্লার মৃত আলিমুদ্দিনের ছেলে। কাউন্সিলর একরামুল হকও একই মহল্লার বাসিন্দা।

Hammer wounds, councilors, detainees,

প্রত্যক্ষদর্শী মকলেসুর রহমান কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান জানান, রেজাউল তার কার্যালয়ে বসেছিলেন। হঠাৎ কাউন্সিলর একরামুল হকের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের সংঘবদ্ধ দল তার কলেজে প্রবেশ করে। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই রেজাউলকে উপর্যুপরি পেটাতে থাকে। এক পর্যায়ে রেজাউল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যখম করা হয়।

আহত দলিল লেখক রেজাউল করিমের স্ত্রী গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাছিমা খাতুন (৩২) অভিযোগ করেন, বসতভিটা নিয়ে কাউন্সিলর একরামুল হকের সাথে তার স্বামীর রেশারেশি চলছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই তার স্বামীকে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, সকালে দলিল লেখক অফিসে রেজাউল ও কাউন্সিলর একামুল হকের ভাই দলিল লেখক এহসানের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আপোষের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এরপর দুপুরে আবারও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। তবে মূলত তাদের দ্বন্দ্ব পূর্ব শত্রুতার জেরে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, রেজাউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মুখমণ্ডলে রক্তাক্ত ক্ষত আছে, পিঠেও লম্বালম্বি ক্ষত রয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস বলেন, তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে কাউন্সিলর একারামুল হককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা দায়ের করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad