দিঘলিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৪ জন

Narail-Photo
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিহত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশের স্ত্রী নীনা ইয়াছমিন (নৌকা), এস এম মাকছুদুল হক (ধানের শীষ), স ম ওহিদুর রহমানের (আনারস) ও সাহিদুল আলম (চশমা) প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর হবে বলে ভোটাররা জানান।

দিঘলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে পেশাজীবী মানুষসহ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে নীনা ইয়াছমিন, ওহিদুর রহমান ও সাহিদুল আলমের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। বিশেষ করে নীনা ইয়াছমিন ও ওহিদুর রহমানের ক্ষেত্রে এ নির্বাচন মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বামী হারানো বেদনাকে কাজে লাগিয়ে এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দলীয় ভোট নিয়ে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হতে চান তিনি। কারণ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন নীনার স্বামী লতিফুর রহমান পলাশ।

ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনিও (মাসুদ) পলাশ হত্যা মামলার আসামী। অন্যদিকে কারাবন্দী চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যসহ তার সমর্থকেরা বলেন, বিজয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চান; ওহিদুর রহমান এলাকার জনপ্রিয় ও যোগ্য ব্যক্তি। ভোটাররা তাকেই ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনীত করে মিথ্যা হত্যা মামলার আসামী করার প্রতিবাদ জানাবে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নীনা ইয়াছমিন বলেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে আমি ভোট প্রার্থনা করছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি। বিজয়ী হলে আমার স্বামীর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্ণ করে ইউনিয়নবাসীর সেবা তথা অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই।

বিএনপির মনোনিত প্রার্থী এস এম মাকছুদুল হককে (ধানের শীষ) ভোটের মাঠে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের ব্যাপারে ফোনেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করেননি তিনি। এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি স ম ওহিদুর রহমানের (আনারস) হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার সমর্থকেরা। তিনি (ওহিদুর) পলাশ হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমানের ভাই মুক্তিযোদ্ধা সরদার আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা আনারস প্রতীকের জন্য ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ভোট চাচ্ছি। সঠিক এবং নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন হলে আনারস প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হবে।

জাতীয় শ্রমিক লীগ লোহাগড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ‘চশমা’ প্রতীকের প্রার্থী সাহিদুল আলম বলেন, প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করছি। এক্ষেত্রে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি বিজয়ী হলে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদসহ প্রতিহিংসার রাজনীতি দূর করবো।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর দিঘলিয়া ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৪৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৯৮৬ এবং নারী ভোটার ৮ হাজার ৯৬১।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু সুন্দরভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দিঘলিয়া ইউনিয়নবাসী নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে পারবেন বলে পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর পৌনে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক লতিফুর রহমান পলাশকে (৪৮) গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নিহত পলাশের বড় ভাই জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ মনিরুজ্জামান মনি, দিঘলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি স ম ওহিদুর রহমানসহ ১৫ জনের নামে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ad