ধানক্ষেতে পড়ে থাকা যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করল পুলিশ

Young man, hospital admission, police
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার খোকসায় ধানক্ষেতের পাশে মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে পড়ে থাকা যুবকের এখনও প্রাণ আছে। যুবকের পঁচা দুর্গন্ধময় শরীরের আবডালে প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাওয়ায় তৎক্ষণাত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ মে) রাতে উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের ধুশুন্ডুগ্রামের একটি ধান ক্ষেতের ভেতরে থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়,থানায় খবর আসে একটি ধানক্ষেতের ভেতরে পঁচে দুর্গন্ধ হয়ে যাওয়া একটি লাশ পড়ে আছে। এ খবরের ভিত্তিতে থানার এসআই সোলাইমান ঘটনাস্থলে যান। যুবকের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর জন্য স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশকে দিয়ে মৃতদেহটি উল্টাবার চেষ্টা করেন।

ওই সময় পঁচা দুর্গন্ধময় নিথর দেহের আবডালে প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। তখন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর সংজ্ঞাহীন অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। আহত যুবকের মাথার বড় বড় চুল জটা ধরা। সাদা চেক সাট ও কালো ফুল প্যান্ট পরিহিত ওই যুবক।

গুরুতর আহত যুবককে উদ্ধারকারী পুলিশের এসআই সোলাইমান বলেন, পঁচা দুর্গন্ধময় শরীরের ভেতরে প্রাণের স্পন্দন পাওয়ার পর যুবকটিকে উদ্ধারের জন্য আমি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আহত যুবক পুলিশের ডাকে সাড়া দেয়ার চেষ্টা করেছিল।

তিনি বলেন, আঘাতে বিকৃত হয়ে যাওয়া যুবকের মুখ ঢাকার জন্য এক শিশুর কাছ থেকে ৪০ টাকা দিয়ে একটি পুরাতন গামছা কিনি। আমার সাথে যাওয়া গ্রাম পুলিশ ও আমি নিজে কাঁধে করে দুর্গন্ধময় আহত যুবককে উদ্ধার করে ভ্যানে তুলি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. অনুপ কুমার সরকার জানান, পুলিশের ভর্তি করে রেখে যাওয়া যুবকের মাথায় ক্ষত স্থানে পোকার জন্ম হয়েছে। সে অনেকটাই অচেতন। তার মাথার ক্ষত স্থানে ড্রেসিং করাসহ ওষুধ ও খাবার নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন। হাসপাতাল সবই করতে পারবে, কিন্তু রোগীর একজন নিজের লোক না থাকায় চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার যুথী জানান, এ ধরণের কোনো সংবাদ তার কাছে নেই। তবে দরিদ্র রোগীদের জন্য একবার ২০০ টাকার ওষুধ দেয়ার তহবিল তার কাছে আছে। তবে সে ক্ষেত্রে রোগীর অভিভাবকদের আবেদন করতে হবে।

ad