নগ্ন ছবি ছাড়ার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে ১ বছর ধরে ধর্ষণ!

Repaist Victime-Home
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকী ও ভাইকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক বছর ধরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করছে হাফিজ উদ্দীন মোল্লা (৬০) নামে এক গ্রাম্য মাতব্বর।

সোমবার (১৪ মে) দুপুরে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি শৈলকুপা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে হাফিজ উদ্দীন মোল্লা গাঁ ঢাকা দিয়েছে।

হাফিজ উদ্দীন গাবলা গ্রামের মৃত বিলাত আলী মোল্লার ছেলে।

জানা যায়, হাফিজ উদ্দীন মোল্লা এক বছর ধরে তার ওই ছাত্রীকে হুকমী ধমকি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করছে।  ১ বছর আগে অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন হাফিজ মোল্লা ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রথমে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে হাফিজ তার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এরপর পরিবারের ওই স্কুল ছাত্রীকে হাফিজ মোল্লার হাত থেকে বাঁচাতে হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াদহ ভায়না গ্রামে বিয়ে দেয়। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। ভাইকে হত্যার হুমকি ও ধর্ষণের সময়ের নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে লাগাতার ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ গত ৮ দিন আগে ঝিনাইদহে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে হাফিজ। ধর্ষণ শেষে তাকে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে বসিয়ে রেখে চলে যায়। এরপর সোমবার তিনি থানায় অভিযোগ দেন।

ভিকটিমের ভাবি বলেন, হাফিজ মোল্লা গ্রামের ধনী লোক ও মাতুব্বর গোচের মানুষ। তার বিরুদ্ধে কেও কথা বলে না।  আমার ননদকে তার হাত থেকে বাঁচাতে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বিয়ের পরও ভয় ভীতি দেখিয়ে আমার ননদকে নানা স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে হাফিজ।

ভিকটিমের অভিযোগ, এলাকার স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের লালসার শিকার বানায় হাফিজ মোল্লা। এ পর্যন্ত সে গাবলা গ্রামের ৭/৮ জন মেয়েকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। হাফিজের হাত থেকে তার ভাগ্নিও বাদ যায়নি।

তবে হাফিজ উদ্দীন মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা এই মিথ্যা অপবাদ ছাড়িয়ে আমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে।

অভিযুক্ত হাফিজের ভাই অবসরপ্রাপ্ত পোষ্টমাস্টার মনিরুল ইসলাম জানান, একজন বিবাহিত মেয়ের পিছু নিয়ে তার ভাই যেমন অপরাধ করেছে। তেমনি ওই মেয়েটিও তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে সমান অপরাধ করে চলেছে।

শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, তিনি শৈলকুপা থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে মামলা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, সোমবার মেয়েটিকে থানায় নিয়ে এসে দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে এক বছর ধরে ভয় ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে। বিয়ের পরও তাকে উত্যক্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে রাতেই ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করবো।

ad