নাজিরপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন

50 thousand taka, dowry, wife, torture,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে স্বামীর হাতে তুলে দিতে না পারায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিন সন্তানের জননী পারভীন আক্তার (৩৮)। তিনি এখন নাজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎধীন আছেন।

শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবাড়ী গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন পারভীন আক্তার বলেন, ১৫ দিন আগে আমার মেয়ে আদুরীকে পার্শ্ববর্তী তারাবুনিয়া গ্রামে বিবাহ দিয়েছি। তাকে তুলে দেয়ার খরচের জন্য আমার স্বামী আমাকে কয়েকদিন ধরে আমার বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবার দারিদ্রতার কথা জানিয়ে টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে আমার স্বামী আমাকে ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

পারভীন আক্তার বলেন, প্রতিবেশীরা বিষয়টি আমার ভাই তরিকুলকে ফোনে জানালে সন্ধ্যার দিকে আমার বাবা ও তিন ভাই আমার স্বামীর বাড়িতে আসে। তারা আমার স্বামীর কাছে আমাকে মারধর করার কারণ জিজ্ঞাসা করে এবং আমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চায়।

তিনি আরও বলেন, তখন আমার স্বামী এখলাছসহ তার সহযোগি এসহাক শেখ, আইউব আলী শেখ, সিদ্দিক শেখ, নয়ন শেখ মিলে আমার বাবা ও ভাইদেরকেও মারধর ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে রাত ১০টার দিকে মাটিভাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে নাজিরপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পারভীন আক্তারের বাবা সুন্দর আলী জানান, ২২ বছর আগে পারভীনকে এখলাছ শেখের নিকট বিয়ে দিয়েছি। বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকাও দিয়েছি। এখলাছ কারণে-অকারণে আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করেছে। কালকে আমরা সংবাদ না পেলে ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলতো।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এখলাছ শেখের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে আমি শুধু আমার স্ত্রীকে মারধর করেছি। অন্য কাউকে মারধর করিনি।

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানভীর হাসান বলেন, পারভীন আক্তারের বাম পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মাটিভাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মিজানুর রহমান খান বলেন, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে আহতদের ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad