নাটোরের নন্দকুঁজা নদীতে রশি টেনে যাত্রীদের নৌকা পারাপার!

Nandkuza River, Rope, Boat Crossing,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে কোনো ব্রিজ নেই। পারাপারের জন্য রয়েছে নির্ধারিত খেয়া নৌকা। কিন্তু নৌকায় নেই কোনো মাঝি। নৌকা এপার-ওপার আনা-নেয়ার জন্য টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে নাইলনের রশি। যাত্রীরা সেই রশি টেনে পারাপার হয়ে থাকেন।

গত প্রায় সাত বছর ধরে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিয়াঘাট হাট সংলগ্ন পয়েন্টে রশি টেনে খেয়া নৌকা পারাপার করে এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দশ গ্রামের মানুষ। উপজেলা সদর এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জেলা সদরে যাতায়াত করতে খেয়া নৌকাটিই একমাত্র ভরসা।

অথচ যাত্রী পারাপারের জন্য বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১২ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে ইজারা নেয়া হয়েছে। মো. আসাদুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ রশি টেনে খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। নদীটির উত্তরপাশে রয়েছে বাজার, মাধ্যমিক ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ঘনবসতিপূর্ণ ছয়টি প্রাম। দক্ষিণ পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারিগরি স্কুল এবং মোল্লাবাজার নামে ছোট বাজার।

নদীটির উত্তরপাড়ের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক নাসরিন সুলতানা জানালেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সাংসদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেক আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

তিনি জানান, ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে দশ গ্রামের মানুষকে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

খেয়াঘাটের মাঝি আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নদীটির উভয়পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ওই সড়ক ধরেই চলাচল করে থাকেন। কেবল ছাত্র-ছাত্রী আর স্থানীয়রা নৌকার ওপর নির্ভরশীল থাকে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগেরমতো গ্রামের মানুষ টাকা দেয় না। ইজারা ১২ হাজার টাকা ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়ে। লোক রেখে খেয়া নৌকা পরিচালনা করা সাধ্যের মধ্যে পড়ে না। বাধ্য হয়েই রশি টেনে নৌকা পারাপার করতে হচ্ছে।

বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, খেয়াঘাটের ইজাদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মৌখিকভাবে সতর্ক করেও কাজ হচ্ছে না।

ad