নাটোরে বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং বাণিজ্য

Natore
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রমজানে সারাদেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও নাটোরের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ ক্লাসের নামে চলছে কোচিং বাণিজ্য।

৮ম শ্রেণি ও ১০ম শ্রেণির এই বিশেষ ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত।

যদি কোনো শিক্ষার্থী এ ক্লাস করতে রাজি না হয় তাহলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। যার ফলে বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীরা কোচিং করছে। তবে এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের অভিভাবকরা। তাদের জন্য অতিরিক্ত এ টাকা দেয়া অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।

জেলার বিভিন্ন স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, রোজা রেখে কোচিং করা খুব কষ্টকর। কিন্তু কিছুই করার নেই। যদি কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়, বা পরীক্ষার সময় যদি কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করা হয়। এর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে করতেই হচ্ছে।

অভিভাবক ও সচেতন সমাজ জানান, এই কোচিং সম্পূর্ণ অনৈতিক, শিক্ষকদের হাতে যখন এতো বড়ই যাদুর কলকাঠি আছে তাহলে তারা সারাবছর ধরে কি করেন? সেই কলকাঠি নাড়েন না কেন? যে এই ১ মাসেই তারা শিক্ষার্থীদের তৈরি করে ফেলবেন। আর এর জন্য টাকাই বা কোনো নেওয়া হচ্ছে?

শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই তাদের ভালোর জন্যেই এই বিশেষ ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। তার বিনিময়ে সামান্য কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষা অফিসের নিকট থেকে চিঠি পেয়েই বৈধভাবেই এই বিশেষ ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে।

রোজার মাসে বাড়িতে রোজা রেখে আর বই পড়ে সময় কাটাবেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু রোজার মধ্যেও ঘাড়ে ব্যাগ নিয়ে স্কুলের দিকে সেই ছুটোছুটি করতে করতেই পার হয়ে গেলো অর্ধেক রেজা। অভিভবাকদের বিশ্বাস সারা বছরগুলো স্কুলের ক্লাসেই যদি ভালো করে পাঠদান দেওয়া হয় তাহলে হয়তো রোজার মাসে এই বিশেষ ক্লাসের আর প্রয়োজন হবে না।

তবে আগামীতে বিশেষ ক্লাসের আড়ালে কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানান অভিভাবকরা।

ad