নাটোরে ৪ ছাত্রী অপহরণ, ১০ ঘন্টা পর উদ্ধার

kidnap, rescue
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের আগ্রাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির চার ছাত্রীকে অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তারা অপহৃত হয়।

হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাড়কের কাছিকাটা টোল প্লাজা এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিন ছাত্রীকে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। বাকি একজনকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগীতায় উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া চার ছাত্রীর বাড়ি মাঝগাঁও ইউনিয়নের আগ্রাণ ও নেংটাদহ গ্রামে।

উদ্ধার হওয়া একজন ছাত্রীর পিতা আব্দুল জলিল জানান, প্রতিদিনের মতো চার বান্ধবী একসাথে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পূর্ব পরিচিত একই গ্রামের রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মাইক্রোবাস চালক সিরাজুল ইসলাম তাদেরকে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তার সাদা রঙয়ের গাড়িতে তুলে নেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ওই মাইক্রোবাসে ওঠেন নেংটাদহ গ্রামের নাইম, সেলিম, আগ্রাণ গ্রামের শাকিল ও গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের কান্তপুর গ্রামের সুজন।

মাইক্রোবাসটি ওই চার ছাত্রীকে নিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে। ছাত্রীদের অপহৃত হওয়ার কথা অভিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে জানাজানি হলে থানা পুলিশের সহযোগীতায় তল্লাশি চালানো হয়। ইফতারের পরে তিনজনকে মাইক্রোবাস থেকে কাছিকাটা টোল প্লাজা এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহরিয়ার খান জানান, বাকি একজনকে ফিরিয়ে দিতে অপহরণকারীর পিতাকে আটক করা হয়েছিল। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউপি সদস্য মো. শাহ আলমের মধ্যস্থতায় অপর ছাত্রীকে অভিভাবকের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেয়ার পর আটককৃতকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে অপহরণ, দিনভর উৎকন্ঠা, পুলিশী তৎপরতা চললেও এ ব্যাপারে রহস্যজনক কারণে থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উদ্ধার হওয়া এক ছাত্রীর পিতা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও আওয়ামী লীগের বড় নেতারা থানায় বসে কার সাথে কি দফা-রফা করেছে জানি না। শুধু শুনেছি আমাদের নিয়ে বসবে।

মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. খোকন মোল্লা জানান, ওই ছাত্রীরা পিকনিক করতে গিয়েছিল এবং সন্ধ্যার পরে ফিরে এসেছে।

ad