নীলফামারীতে দুইদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি

Nilphamari, winter, crashes, public life,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: নীলফামারীতে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠাণ্ডায় লোকজন ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না। সারাদিন ঘন কুয়াশায় আছন্ন হয়ে থাকছে পথঘাট। গত দুইদিন ধরে জেলার কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, নীলফামারীতে আজ ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত মানুষজন দিনভর খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে বয়স্ক ও শিশুরা। সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের বাজার মৌজা গ্রামের অনেক শীতার্ত মানুষ এখনও সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

জেলায় প্রায় ৪২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ডোমার উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।

স্থানীয় বেশিরভাগ মানুষই জানিয়েছেন, তারা শীত বস্ত্র পাননি। স্থানীয় কৃষক সফিয়ার বলেন, যে শীত গেইল তা কাহো ভুলিবার পারিবে না। তয় এলাও কাহো গরম কাপড় দেয় নাই।

প্রচণ্ড শীতে বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। শীতের কারণে তারা কাজে যেতে পারছেন না। গত কয়েকদিনের অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ ও তীব্র শীতের ফলে বেড়ে গেছে গরম কাপড়ের বিক্রি। রেললাইনের ধারে লন্ড্রি বাজারের শীতের কাপড় কিনতে উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে।

তীব্র শীতের জন্যে আগাম জাতের আলু নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বীজতলা মরে যাচ্ছে। ফলে বেকায়দায় পড়েছে কৃষকসহ সকলেই। সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টিপাতের মত ভারী কুয়াশা পড়ছে।

ডোমার বড়রাউতা গ্রামের কৃষক আইজুল বলেন, আরও কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। শীতের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে আগাম জাতের আলু।

এদিকে, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে প্রায় ১৪/১৫ জন সম্ভাব্যপ্রার্থী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তৎপরতা চালালেও তাদের কাউকে শীতার্তদের মাঝে দেখা না যাওয়ায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ad