নৌকার গ্রাম, নৌকার হাট

Boat, village, hat
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রূপগঞ্জের অজোপাড়াগায়ের পল্লীতে গড়ে ওঠেছে নৌকার গ্রাম। আর এ নৌকার গ্রামকে ঘিরে বালু নদীর তীর ঘেষে জমে উঠেছে ব্যতিক্রমী নৌকার হাট। একদিকে নদী, আর তিনদিকে বর্ষার পানি এলাকা দু’টিকে বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপে পরিণত করেছে। নৌকা তৈরির এ গ্রাম দু’টির অদূরেই বালু নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট।

গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গোলাকন্দাইল বাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার বসে নৌকার হাট। ইছাখালী-নগরপাড়া সড়কের অদূরেই নৌকার গ্রাম। এলাকা দু’টি পানিতে ডুবে আছে। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাত্র তিন মাস মৌসুমি ব্যবসা। চাহিদা যথেষ্ট, তাই কারিগরদের ব্যবস্থাও বেশি। বর্ষা আসলেই রূপগঞ্জের নয়ামাটি ও পিরুলিয়া এলাকায় নৌকা তৈরির ধুম পড়ে যায়। কারিগরেরা হয়ে পড়েন মহাব্যস্ত। কায়েতপাড়া নৌকার হাটটিতে তখন চলে নৌকা বেচাকেনার রমরমা ব্যবসা।

শুরুর ইতিহাস: কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পিরুলিয়া ও নয়ামাটি এলাকার কারিগরেরা স্বাধীনতারও আগে থেকেই নৌকা তৈরি করে আসছে। কারো মতে, এ এলাকার নৌকা তৈরির ইতিহাস প্রায় শতাব্দী প্রাচীন।

কারিগর কারা: নৌকা তৈরির গ্রাম পিরুলিয়া ও নয়ামাটি বললেই সবাই চেনে। এলাকা দু’টি গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের। হিন্দুরাই দীর্ঘদিন ধরে নৌকা তৈরি করে আসছে। আশির দশকের পর নৌকা ব্যবসায়ী কমে যায়। অনেকে ভারত চলে যাওয়ায় এখন দেড়শো পরিবার টিকে রয়েছে কোনমতে।

পিরুলিয়া এলাকার সত্যেন দাস বলেন, পিরুলিয়া ও নয়ামাটি এলাকার নৌকা তৈরির কারিগরেরা এখন ভালই আছেন। নৌকা বিক্রি করে তারা সংসার চালাচ্ছেন। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। বছর শেষে মোটামুটি লাভের মুখও দেখছেন। আমার ছেলে লেখাপড়া করছে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি।

বর্তমান অবস্থা: নৌকা তৈরির কারিগরদের অবস্থা এখন কিছুটা ভাটা পড়েছে। ৯০’দশকের পর যান্ত্রিক সভ্যতা ফিরে আসায় নৌকার কদর কিছুটা কমে যায়।

প্রতিবছর বন্যা হলে ব্যবসা ভালো হয় বলে জানালেন সুনীল দাস। তিনি বলেন, ৮৮ আর ৯৮ সালের বন্যায় অনেক টেহা লাব অইছিলো।

নয়ামাটি এলাকার নৌকার কারিগর রবি দাস বলেন, কাডের দাম বাইড়া যাওনে লাভটা কম হয়। নাইলে ব্যবসা খারাপ না। আর ষ্টেলের নৌকার কারণে কিছুডা লছ অইতাছে। তারপরেও খারাপ নাই। ডাইল-ভাত খাইবার পারি।

সাওঘাট এলাকার কারিগর প্রদ্যুত কুমার সরকার বলেন, আগে ব্যবসা ভালাই আছিলো। অহন কাডের দাম আর লোয়া (লোহা) পেরেকের দাম বাইড়া যাওনে লাভ কম অয়।

খরচ কত: এক একটি নৌকা তৈরি করতে খরচ পড়ে ৯/১০ হাজার টাকা। আর মোটামুটি কাঠের নৌকা তৈরিতে খরচ পড়ে ৬/৭ হাজার টাকা। এমন কথা জানান নৌকার কারিগর তাপস দাস।

নৌকার হাটের কথা: বালু নদীর তীর ঘেঁষেই কায়েতপাড়া বাজারে বসে নৌকার হাট। বর্ষা মাস জুড়েই এ হাট জমে। ঢাকার নিম্মাঞ্চলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে আসেন। দামে সস্তা হওয়ায় এখানকার নৌকার কদরও বেশি। নৌকার হাট শুরু হয় নৌকা তৈরির গ্রামগুলোর কারিগরদের ঘিরেই। এ হাটে কয়েক হাজার নৌকা ওঠে। ওঠে নৌকার বৈঠাও।

গজারি কাঠের এক-একটি নৌকার দাম পড়ে ১২/১৩ হাজার টাকা। আর কোষা ৭/৮ হাজার টাকায়। বৈঠাগুলো ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।

ঢাকার ত্রিমহোনী থেকে নৌকা কিনতে আসা ওমর আলী বলেন, এ হাটে সস্তায় নৌকা পাওয়া যায়।

ad