নড়াইল কালিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কোটি টাকা সরকারের ক্ষতি

ad

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে কালিয়ায় নির্বিকারে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও জমজমাট বালু ব্যবসা চলছে । এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। নড়াইলের নবগঙ্গা নদী থেকে গাজীরহাট,বাবুপুর,বিষ্ণুপুর কুলশুর,কাঞ্চনপুর,শুক্তগ্রাম,ইসলামপুর ও মধুমতি নদীর বড়দিয়া,যোগানিয়া,জয়নগর,চাপাইলসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ।

স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন মোবাইল কোর্ট বা তদারকি করেন না।বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, নড়াইলের নবগঙ্গা ও মধুমতি নদী থেকে প্রতিদিন দু’লক্ষ ঘনফুট বালি উওোলন করা হচ্ছে, যার বাজার মুল্য আট লক্ষাধিক টাকা, এভাবে বৎসরে প্রায় ৮ মাস এ নদী গুলো থেকে প্রায় কুড়ি কোটি টাকার বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী এই ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছেন। নড়াইলের প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব ভুমিকা পালন করছেন। নড়াইলের নবগঙ্গা নদী পেড়লী থেকে চাপাইল মধুমতি নদী প্রায় ৪০কিঃ মিঃ প্রতিদিন ছোট বড় ধরনের ৫-৭ টি ড্রেজার ম্যাশিন দিয়ে দিনরাত ১০-১৫ টি ট্রলারে বালি উওোলন করে যাচ্ছে।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলা নবগঙ্গা ও মধুমতি নদী থেকে নির্বিকারে অবৈধভাবে বালি উওোলন এখনও অব্যাহত আছে। এ কারণে এই দুই নদীর দুই পাড়ের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নড়াইলের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ নদী ব্যবস্থাপনা কমিশনের কোনই তৎপরতা নেই। বাংলা ড্রেজার ও ভলগেট দিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে যত্রতত্র বালু উওোলন করায় বর্ষা মৌসুমে নদীর দু’কিনারা আবার ভাঙ্গনের মুখে পড়বে।

এতে বহু ঘরবাড়ি শত শত একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এই ভাঙ্গন রোধ করতে প্রতি বছর সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেছে এবং এখনও ব্যয় করে যাচ্ছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তা বালু খেকোদের কাছ থেকে মাসোহারা বা উৎকোচ নেওয়ার কারণে প্রশাসন থেকে কোন নজরদারী নাই। নির্বিকারে অবৈধভাবে বাবুপুর ও কুলশুর,মাধপপাশা, নোয়াগ্রাম,বড়কালিয়া , কাঞ্চনপুর,নাওরা, শুক্তগ্রাম,ইসলামপুর, ভাঙ্গনের মুখে পড়বে ।

এ ব্যাপারে নড়াইলের কুলশুর ও পাচকাহুনিয়া অসহায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে কোন প্রতিকার পাননি। প্রতি দেড় ঘন্টায় একটি ড্রেজার ম্যাশিন দিয়ে ৩/৪ হাজার ঘন ফুট বালি নদী থেকে উওোলন করছে। এলাকাবাসী জানায় এ ভাবে দিনরাত বালি উওোলন করা হলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার অনেকাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। নবগঙ্গা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকবে। এই সমস্ত বালি ট্রলার ভর্তি করে খুলনা, মোংলা,নড়াইল সদর সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে।
তবে রাতের বেলায় বেশী বালি উওোলন করা হচ্ছে।

এদিকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা ভুমি অফিস থেকে জানা যায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলা ভোমবাগ,বৃহাছলা,পারবিষ্ণপুর,চাপাইল,ও চর সিঙ্গাইল সরকারী ভাবে বালি উওোলনের করার অনুমতি আছে। তবে এছাড়া অন্যান্য স্থান থেকে দিদাচ্ছে অবৈধভাবে বালি উওোলন করা হচ্ছে ।

ad