পাঁচ লক্ষ মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র ৪ জন!

Amtoli Hospital
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার পাঁচ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় চিকিৎসক আছে মাত্র চারজন।  দুই উপজেলায় ৩৯টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও ৩৫টি পদই শুন্য। তাছাড়া আমতলীর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালের নতুন ভবনে ক্রটিপুর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে অধিকাংশ ফ্যানই অকেজো। শৌচাগারে কোনো লাইট নেই। তালতলী ২০ শয্যা ও কুকুয়ার ১০ শয্যা হাসপাতালের অবস্থা আরও নাজুক।

জানাগেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় তিনটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তিনটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য এন্ড হেলথ ক্লিনিক রয়েছে। এসব স্বস্থ্য কেন্দ্রে ৩৯টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে আমতলী উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে ৬ জন। এরমধ্যে ডা. মোনায়েম সাদ প্রেষণে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে, জিকু শীল ও ডেন্টাল চিকিৎসক রকিবুল আলম ২ মাসের বেসিক ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। যার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসকসহ তিনজন দিয়ে চলছে উপজেলার সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এরমধ্যে চিকিৎসক আছে মাত্র ১ জন। ওই একজন চিকিৎসক দিয়ে চলে দেড় লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। কুকুয়া ১০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কোনো চিকিৎসক নেই। গুলিশাখালী, গাজীপুর ও তালতলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য এন্ড হেলথ ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক নেই।

আমতলী ও তালতলীর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসক পদ খালী থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তারা চিকিৎসা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে বাধ্য হয়েই চলে যাচ্ছেন প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দুঃস্থ মানুষজন। তারা না পাচ্ছেন সরকারি চিকিৎসা না পারছেন প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে।

সোমবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ট্রমা সেন্টার ঘুরে দেখাগেছে, দুই চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিচ্ছে। অনেক মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুই চিকিৎসক সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ১০টি ফ্যানের মধ্যে ৬টি অকেজো। শৌচাগারে লাইটের পয়েন্ট থাকলেও ভাল্ব নেই। মহিলা ওয়ার্ডে ৮টি ফ্যানের ৬টি অকেজো, শিশু ওয়ার্ডে ৫টি ফ্যানের ৩টি অকোজো, ডায়েরিয়া ওয়ার্ডে চলে মাত্র একটি ফ্যান, নেই কোনো শৌচাগার।

স্থানীয়রা জানালেন, এ দুরবস্থা চলছে গত দুই তিন বছর ধরে।

রোগী রহিমন, নিলুফা ও তহমিনা অভিযোগ করে বলেন, রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইট নিয়ে শৌচাগারে যেতে হয়। হাসপাতালের অধিকাংশ ফ্যান অকোজা। গরমে টেকা যায় না।

গুলিশাখালী গ্রামের শহীদুল ইসলাম বলেন, পুরুষ ওয়ার্ডের ১০টি ফ্যানের ৬টি অকোজো। হাসপাতাল নয়তো যেন জাহান্নাম।

তালতলীর গাবতলী গ্রামের মো. আবদুল মাজেদ মাস্টার জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন চিকিৎসক না থাকায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সামান্য অসুখ হলেও তাদের শহরের কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হয়। এতে যেমনি গরিব মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে, গাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকে প্রায়ই তালাবদ্ধ। ওইখানে চিকিৎসক ও কর্মচারী নেই। উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার ওই ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকলেও তিনি সপ্তাহে একদিন যান। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক না থাকায় মানুষের পটুয়াখালী ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

গাজীপুর এলাকার সোহেল রানা বলেন, গাজীপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুর সরকার দায়িত্বে থাকলেও তিনি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার আসেন। বাকী দিনগুলি কেন্দ্র বন্ধ থাকে।

মিঠুন সরকার সপ্তাহে দু’দিন যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে আনা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ৩৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে ৪ জন চিকিৎসক রয়েছে। চিকিৎসক চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। অকোজো ফ্যানগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।

ad