পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার চাষিরা

Chuadanga Pat
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: পাট চাষের জন্য একসময় পুরো দেশে বিখ্যাত ছিল চুয়াডাঙ্গা জেলা। তবে এখন এ জেলায় পাট চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে। লোকসান বাড়ায় চাষিরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পাট চাষ থেকে। জেলাতে গত বছর প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও চলতি বছরে তা অর্ধেকরও কমে নেমে এসেছে। পাটের পরিবর্তে অর্থকরি ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে ধান ও সবজি আবাদ।

মূলত চাষের খরচ বাড়া, শ্রমিক না পাওয়া, পানির অপ্রতুলতা এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, দাম নিয়ে ক্ষোভের কারণে পাট চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন এই এই জেলার পাট চাষিরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে পাটের দরপতন, উৎপাদন খরচ বেশি ও পাট ছড়ানো পানির অভাবে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। এক বিঘা জমিতে সাত-আট মণ পাট উৎপাদন হয়। আর প্রতি মণ পাট সর্বোচ্চ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এক্ষেত্রে বাজারমূল্য হিসেবে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ষাটের দশকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল, আবার বড় বড় জুট মিলের চাহিদা পূরণে কৃষকরা পাট চাষে ব্যাপক লাভবান হতেন। অপরদিকে, ক্রয় কেন্দ্রগুলো পাট সংগ্রহ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করতো। ফলে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে কৃষকরাও ঝুঁকে পড়তেন পাট চাষে।

জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৪টি উপজেলায় মোট পাট চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৩৯৪ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩ হাজার ৯৪ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় মাত্র ৮০০ হেক্টর জমিতে।

গত বছর জেলায় পাট চাষ হয়েছিল ২২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চাইতে এ বছর পাট চাষ কম হয়েছে ১২ হাজার ৬৭৬ হেক্টর জমি। যা অর্ধেকেরও কম। জেলায় ২২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার ধারে কাছে পৌঁছায়নি লক্ষ্যমাত্রা।

চুয়াডাঙ্গার কয়েকজন পাটচাষী জানান, পাট চাষ করে যখন ঘরে তোলা হয় তখন পাটের দাম থাকে ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা। এক বিঘা জমিতে পাট হয় ৭ থেকে ৮ মণ। সে হিসেবে এক বিঘা জমির পাট বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকায়। অথচ, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে গিয়ে খরচ হয় সর্বনিম্ন ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। সবচেয়ে বড় সমস্যা পাট কেটে জাগ দেয়া। তার ওপর পাট চাষ করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নিশ্চয়তা নেই।

তিনি জানান, পাট চাষ করে চাষিরা আর এর সুবিধা ভোগ করে আড়ৎ ব্যবসায়ীসহ বড় বড় মহাজনেরা। দেশে এখন অনেক ধরনের চাষ উঠেছে। এক বিঘা জমিতে বছরে তিন বার চাষাবাদ করার মতো ফসল আছে। লোকসান জেনে কেউ পাট চাষ করবে কেন? যতটুকু চাষ হয়েছে জ্বালানির পাটকাটি চাহিদা মেটানোর জন্য। তার ওপর কৃষি বিভাগের পাট চাষের ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। সরকারিভাবে জেলাতে নেই কোনো পাট ক্রয় কেন্দ্র।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাঈম আস শাকিব জানান, ধানের দাম ভালো না পাওয়ায় পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে চাষিরা। তার ওপর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে পাট জাগ দেবার জায়গার সমস্যাতো আছেই। এছাড়াও বর্তমানে ধান পাটের চাষের চাইতে কৃষকেরা সবজি চাষে বেশি আগ্রহী। যার কারণে জেলাতে পাট চাষ হ্রাস পেয়েছে।

ad