পুঠিয়ায় আমের বাজারে ধস, লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

Puthia, mango market, collapse,
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলতি বছরের শুরু থেকে আমের জন্য অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় এ বছর আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারগুলোতে ব্যাপক আমের আমদানি হওয়ায় কেনা-বেচায় ধস নেমেছে। এতে করে মহা বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, নতুন ও পুরাতন মিলে এ বছর প্রায় সাড়ে ৮০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন।

এ বছর বেশিরভাগ বাগানে আম দেখা দেয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূল বিরাজ করায় লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন আম। এতে চলতি বছর এই অঞ্চলের আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকা লোকসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমের দাম কম থাকায় আগামী বছরের জন্য নতুন করে আম বাগান কেনা-বেচাও হচ্ছে না।

জেলার সর্ববৃহৎ আমের বাজার বানেশ্বর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আমের উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ হলেও কেনা-বেচায় ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। আমের আড়তগুলোতে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকার কারণে আম নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে বিক্রেতাদের।

বিভিন্ন আর্টি জাতীয় আম ভাঙা প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাজারগুলোতে বর্তমানে লখনা, খেসাপাত ও ল্যাংড়া জাতীয় আম বেশি দেখা যাচ্ছে। ফজলি আম দুই-একজন বিক্রেতা নিয়ে আসলেও আরও এক সপ্তাহ পর থেকে পুরোদমে আসা শুরু করবে। আর আশ্বনী আম ভাঙা পড়বে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন পর থেকে।

বর্তমানে আমের প্রকারভেদে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। উপজেলার বিড়ালদহ, শাহাবাজপুর, ধোপাপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন আমের আড়তগুলোতে দেখা গেছে, দরপতনের কারণে আম নিয়ে আসা বিক্রেতারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার আম চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরগুলোতে বেশি লাভের আশায় এক প্রকার অসাধু ব্যাবসায়ী ও বাগান মালিকরা মৌসুম শুরুর আগেই অপরিপক্ক আম ভাঙা শুরু করতো। পরে তারা ওই আমের গায়ের রঙ ভালো করতে বিভিন্ন রাসয়নিক ওষুধ ব্যবহার করতো। যার কারণে সরকার আম বাজারজাতকরণে সময় নিধারণ করে দিয়েছে। আর এই কারণে একসাথে সকলেই আম ভাঙার কারণে আমের বাজারে ধস নেমেছে।

বানেশ্বর আম আড়ৎদার বজলুর রহমান বলেন, এ বছরের প্রথম থেকে আমে বাজারে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া উৎপাদনের চেয়ে বাজারে আমের চাহিদা অনেক কম। যার ফলে আমের দাম বিগত বছর গুলোর তুলনায় অনেক অংশে কম হয়েছে। আমের ব্যাপক দরপতন হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের কয়েক কোটি টাকা লোকসান হবে।

ad