পুঠিয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় অতিদরিদ্র কর্মসূচির আওতায় ৪০ দিনের প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের সভাপতি ও মহিলা সদস্যর পরিবারের লোকজনের নাম তালিকাভুক্ত করেছে। তারা কোনো প্রকার কাজ না করেই নিয়মিত টাকা উঠাচ্ছে।

অপরদিকে, বিভিন্ন খাত দেখিয়ে একাধিক শ্রমিককে অর্ধেক টাকা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার জিউপাড়া ইউপি এলাকায় পর্যায়ক্রমে কর্মসৃজন প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। প্রকল্পে সভাপতি ইউনিয়নের সদস্য সদস্য জয়নাল আবেদীন এবং প্রকল্পের শ্রমিকদের দলপতি হচ্ছে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জেসমিন আরা খাতুনের স্বামী হাবিবুর রহমান।

অভিযোগে আরও জানা যায়, প্রকল্পের সভাপতি ও মহিলা সদস্য এবং তার স্বামী দলপতি মিলে তাদের পছন্দ মতো লোকজন দিয়ে কাজ করাচ্ছে। শ্রমিকদের তালিকায় তাদের পরিবারের লোকজন রয়েছে ১০-১২ জন। তারা কাজ না করেই নিয়মিতভাবে টাকা উঠাচ্ছে।

এছাড়া, বেশিরভাগ শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, ব্যাংকের লোকজন ও বিভিন্ন খাতাপত্রে খরচ দেখিয়ে মাথা পিছু ২০০-৩০০ টাকা কেটে নেয়। আবার অনেক শ্রমিকের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে থেকে এনামুল হক ও আবুল বাসার নামে দুইজন ব্যক্তি গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত বুধবার (৩০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে জিউপাড়া ইউপি এলাকার সরিষাবাড়ী মসজিদের কাছে গিয়ে দেখা গেছে, ৪০ জন শ্রমিক থাকার নিয়ম থাকলেও উপস্থিত আছেন ২৮ জন। কাজের স্থানে পাওয়া যায়নি শ্রমিকদের দলপতিকেও।

কর্মরত একাধিক শ্রমিকরা বলেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই ২৮ থেকে ৩০ লোকজন নিয়মিত কাজ করে আসছি। বাকিরা প্রকল্পের সভাপতি। সম্পাদকের ভাই, বড় মা ও পরিবারের আটজনের নাম আছে। তারা কখনোই কাজ করতে আসে না। অপরদিকে লিখিত অভিযোগ দেয়ায় দলপতি ওই দুই ব্যক্তিকে কাজে আসতে নিষেধ করেছে।

তবে প্রকল্পে সভাপতি ও ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউপি সদস্যদের পরিবারের একজন করে লোকের নাম দেয়া আছে। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ জানেন। আর আমাদের বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাপ করতে হয়। তাই শ্রমিকদের কাছ থেকে কিছু টাকা খরচাপাতি জন্য কেটে রাখা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আল ওয়াদুদ অভিযোগপত্রটি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে ২-১ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad