পুঠিয়ায় কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

puthiya calvert
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১২টি স্থানে কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে কয়েকটি স্থানে অতি নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার কোথাও সংযোগ রাস্তা নেই তবুও সেখানে কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি অর্থ বছরে যোগাযোগ ও দুর্যোগ ব্যস্থাপনার অধীনে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮শ’ ২২ টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১২টি স্থানে কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে ছত্রগাছায় ৪০ লাখ ৯৪ হাজার ৫শ’ টাকায় ৫০ ফিট, খোকশা বিধির খালে ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৫ টাকায় ৩০ ফিট, বানেশ্বর ধান হাটের রাস্তায় ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৫ টাকায় ৩০ ফিট, টোনাপাড়ায় ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকায় ৩৪ ফিট, বিলমাড়িয়ায় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৪ টাকায় ২০ ফিট।

 কৃষ্ণপুর সড়কের পার্শ্বে ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৪ টাকায় ২০ ফিট, কান্দ্রা আশ্রয়ন প্রকল্পের নিকট ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৪ টাকায় ২০ ফিট, চক ধাদাস ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৫ টাকায় ৩০ ফিট, সাধনপুর বৃদ্ধশ্রমের নিকট ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৫ টাকায় ৩০ ফিট, অমৃত পাড়ায় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকায় ৪০ ফিট, বানেশ্বর খুটিপাড়ায় ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১৫ টাকায় ৩ ফিট, কানাইপাড়ায় ৪০ লাখ ৯৪ হাজার ৫শ’ টাকায় ৫০ ফিট কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে।

কান্দ্রা গুচ্ছো গ্রাম ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বদিউজ্জামান বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে একই স্থানে একাধিক কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ কোনো কালভার্টের যাতায়াতের জন্য নিদিষ্ট কোনো সড়ক বা রাস্তা নেই। আর এখানে কালভার্ট নির্মাণ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

গ্রামবাসী আতাহার আলী বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনেক হলেও দেখার লোকজনের অভাবে কালভার্ট নির্মাণ অতি নিন্মমানের হয়েছে। কিছুদিন আগেও কালভার্টের বিভিন্ন স্থানে রড বেড়িয়ে ছিল। পরে এলাকার লোকজনের প্রতিবাদে ঠিকাদার সিমেন্ট বালু দিয়ে ঢেকে দেয়।

পুঠিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (কানাইপাড়া) শাহাদত হোসেন বলেন, গ্রামের লোকজন কালভার্ট নির্মাণ কাজে কিছু অনিয়ম করা হয়েছে বলে আমাকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছে।

ওই গ্রামের জুলহাস সরদার বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে কালভার্টের ঢালাই কাজ অনেক নিন্মমানের হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার লোকজন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানিয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন কালভার্ট নির্মাণ ঠিকাদার বলেন, বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রী ও শ্রমিকের মূল্যে অনেক বেড়ে গেছে। তার ওপর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস খরচ বাবদ ১২% দিতে হচ্ছে। এতে করে শতভাগ কাজ কোনভাবেই করা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আল ওয়াদুদ ঠিকাদারদের নিকট থেকে অর্থ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কালভার্ট নির্মাণে কোনো গাফিলতি হচ্ছে না। যে সকল কালভার্টগুলোতে সংযোগ সড়ক নেই সেগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে।

ad