পুঠিয়ায় চাঁদা না দেয়ায় বিদ্যুতের লাইন নির্মাণে বাধা

Puthiya map
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় চাঁদা না দেয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ১০ ঘরে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগিরা গণস্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পুঠিয়া জোনাল অফিসে দিয়েছেন ।

গত ১০ মে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পান্নাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া প্রকল্পে পান্নাপাড়া কমিউিনিটি ক্লিনিকসহ ১০টি ঘরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে মোতাবেক ঠিকাদারের লোকজন গত ১০ মে লাইন নির্মাণ কাজ করতে আসে। তারা লাইন নির্মাণ কাজ শুরু করলে ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বিদ্যুৎ প্রত্যশীদের নিকট থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে। সে সময় বিদ্যুৎ প্রত্যাশীরা ইউপি সদস্যকে তার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে ইউপি সদস্য লাইন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং ঠিকাদারের লোকজনদের তাড়িয়ে দেয়।

পান্নাপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমারা সরকারি খরচে বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এখানে ইউপি সদস্যকে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ টাকা দেব কেন? সে একজন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার মদদে লাইন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবক সানোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্রামের শত শত রোগী সেবা নিতে আসেন। এই প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ ঠিকাদার গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, সরকারি খরচে বিভিন্ন স্থানে আমরা লাইন নির্মাণ কাজ করে আসছি। গত সপ্তাহে পান্নাপাড়া গ্রামের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ১০টি ঘরের লাইন নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু এখানকার ইউপি সদস্য ও তার লোকজনের বাধার কারণে আমাদের শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে চলে গেছেন।

ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, ঠিকাদারের নির্দেশক্রমে নয়ন নামের একজন ব্যক্তি নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে একটি পোল ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করে আনে। পোল আনা বাবদ গাড়ি ভাড়া ১৬০০ টাকা খরচ হয়েছে। ওই টাকার দেয়ার জন্য আমরা ঠিকাদারকে বলেছি। এরপর থেকে ঠিকাদার আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করছে না। আমি কোনো গ্রাহকের নিকট থেকে চাঁদা চাইনি। আর আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার করছে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম (পুঠিয়া জোনাল অফিস) নাসির উদ্দীন লিখিত অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ফ্রি-তে পৌঁছে দিচ্ছে। এখানে কোনো টাকা পয়সা দেয়া বা নেয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে আমি ছুটিতে আছি। অফিসে যোগদানের পর ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করবো।

ad