পুঠিয়ায় তৌহিদুল হত্যা পরকীয়ার জেরে

rajshahi map
ad

স্থানীয় প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় প্রায় আড়াই মাস পর তৌহিদুল ইসলামের (২৫) মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মৃতের স্ত্রী তাহমিনা বেগম পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে জবানবন্দী দিয়েছে। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকসহ তিনজনকে আটক করেছে।

বুধবার (৭ মার্চ) দুপুরে আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলো- নিহত তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম (২১), প্রেমিক ভালুকগাছি-চকদোমাদি গ্রামের মোমিন মুন্সির ছেলে সুমন আলী (২৩) ও তার বড় ভাই সুজন আহমদ (২৬)।

পুলিশের তদন্তে জানাগেছে, নিহত তৌহিদুলের স্ত্রী তাহমিনার সাথে একই গ্রামের সুমন আলী পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২২ ডিসেম্বর রাতে তৌহিদুল ইসলাম তার ঘরে স্ত্রী ও প্রেমিক সুমনকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

ওই সময় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক মিলে তৌহিদুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ওই রাতেই সুমন তার বড় ভাই সুজনের সহয়তায় বাড়ির পাশের একটি আম বাগানে গলায় দড়ি লাগিয়ে তাকে ঝুলিয়ে রাখে। পুলিশ ওইদিন তৌহিদুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনার পর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় প্রাথমিক সুরতহাল তৈরির সময় নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রহস্যজনক মৃত্যু বলে ধারণা করে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত থানা পুলিশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

সম্প্রতি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যা করার প্রমাণ আসলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পরে আসামীদের মোবাইলের বিভিন্ন তথ্য ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আসামীদের আটক করতে পুলিশ সক্ষম হয়।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা হত্যাকাণ্ডের কিছু তথ্য দিয়েছে। আসামীদের আরও জিজ্ঞসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

ad